খাওয়ার আগে ও পরে মুমিনের প্রার্থনা
রাসুলের শেখানো আদব ও দোয়া মেনে আহার গ্রহণ করলে তা শরীর ও আত্মার শক্তি জোগানোর পাশাপাশি অশেষ সওয়াবের মাধ্যমে পরিণত হয়।
রাসুলের শেখানো আদব ও দোয়া মেনে আহার গ্রহণ করলে তা শরীর ও আত্মার শক্তি জোগানোর পাশাপাশি অশেষ সওয়াবের মাধ্যমে পরিণত হয়।
নবীজির ছোট কামরার এক কোণে বসা ছিলেন আয়েশা (রা.)। খাওলা এত বিনীত আর নিচু স্বরে কথা বলছিলেন যে পাশে বসেও তাঁর সব কথা তিনি শুনতে পাচ্ছিলেন না।
অনেকে স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা মনের ভেতর গোপন রাখাকেই পৌরুষের লক্ষণ মনে করেন। কিন্তু আল্লাহর রাসুল (সা.) ভালোবাসা প্রকাশে ছিলেন অকপট।
হাদিস থেকে বোঝা যায়, নবীজির টুপিতে বৈচিত্র্য ছিল, তাই একটি নির্দিষ্ট রং বা ধরনকে অপরিহার্য ভাবার সুযোগ নেই। তবে নবীজির সাদা পোশাক পছন্দের কথা বর্ণিত আছে।
নিজের দিক থেকে শতভাগ নিষ্পাপ থাকার পাশাপাশি অন্যের চোখেও যেন কোনো বিভ্রান্তি না জন্মে—সেই সামাজিক দূরদর্শিতা নিশ্চিত করাই হলো নবীজির জীবনাদর্শ।
সুন্নতের সৌন্দর্য এখানেই যে এর অনুসরণে জীবনের সাধারণ কাজও সওয়াবের উপলক্ষ হয়ে উঠতে পারে। খাওয়া, ঘুম, পোশাক পরা কিংবা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটালেও তা ইবাদত হয়।
প্রতিদিন পাঁচবার নামাজের জন্য আমরা মসজিদে যাই। এ সময় কয়েকটি কাজ করলে প্রতিবার যাতায়াতেই ১০টি সুন্নত পালন করা যায়। পাঁচ ওয়াক্তে যার সংখ্যা দাঁড়ায় ৫০।
ইসলাম মানবচরিত্রের এ স্বাভাবিক প্রবণতাকে উপেক্ষা করেনি; বরং বৈধতার সীমার মধ্যে থেকে তুলনামূলক সহজ ও স্বস্তিদায়ক বিকল্প গ্রহণ করার এক অনন্য জীবনাদর্শ রেখে গেছেন মুহাম্মদ (সা.)।
রাতে দ্রুত বিছানায় যাওয়া এবং ভোরে ঘুম থেকে ওঠা। অপ্রয়োজনে গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকার অভ্যাস শারীরিক ও মানসিক উভয় স্বাস্থ্যের জন্যই মারাত্মক ক্ষতিকর।
ইসলাম সকালবেলার জন্য এমন কিছু আমল শিক্ষা দিয়েছে, যেগুলো মানুষকে আল্লাহমুখী করে এবং সারা দিনের জন্য প্রশান্তি ও বরকতের পরিবেশ তৈরি করে।
নতুন বৃষ্টির পানি স্পর্শ করা সুন্নত। একবার বৃষ্টি শুরু হলে নবীজি তাঁর গায়ের চাদর সরিয়ে শরীর খানিকটা উন্মুক্ত করে বৃষ্টিতে ভেজান এবং দোয়া পাঠ করেন।
আখেরি চাহার শোম্বা পালন নিয়ে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি ও সুন্নাহ অনুসরণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
আধুনিক যুগে অভ্যাসে পরিণত হওয়া অনিয়মিত রাত জাগার প্রবণতা মানুষের ভোরের ইবাদত বিনষ্ট করে এবং শারীরিক ভারসাম্য নষ্ট করে, যা নবীজির শিক্ষার পরিপন্থী।
ফকিহগণ এ নিয়ে মতভেদ করেছেন যে মিসওয়াক নির্দিষ্টভাবে অজুর সুন্নত, নাকি নামাজের সুন্নাহ, নাকি ইসলামের একটি সাধারণ সুন্নত, যা সর্বাবস্থায় ও সর্বসময়ে কাম্য?
রাসুল (সা.) দুপুরের পরিশ্রান্ত ভাব কাটানোর এমন একটি সহজ, স্বাস্থ্যকর ও প্রশান্তিকর অভ্যাস শিখিয়ে গেছেন, যা শরীরকে সতেজ করার পাশাপাশি ইবাদতের শক্তিও জোগায়।
একজন মুমিনের অন্যতম দায়িত্ব হলো, নিজের জিবকে সংযত রাখা এবং সর্বাত্মক চেষ্টা করা, যেন তার কথা কারও সম্মানহানি বা কষ্টের কারণ না হয়।
অতীতে একটি মাত্র হাদিস যাচাই করার জন্য অনুরাগী শিক্ষার্থীরা হাজার মাইল পথ সফর করতেন। খাতিব আল-বাগদাদি হাদিস সংগ্রহের সফর বিষয়ে পৃথক ইতিহাস সংকলন করেছেন।
ইসলামে দাড়ি রাখা প্রসঙ্গে কোরআন-হাদিসের আলোকে ‘সুন্নাতে ওয়াজিবা’, পরিমাণ ও ফজিলত সম্পর্কিত ব্যাখ্যা নিয়ে ধর্মীয় আলোচনাভিত্তিক লেখা।
মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে মানুষ আধ্যাত্মিক আমল ও দোয়ার আশ্রয় খোঁজেন। কিন্তু কোনটা সুন্নাহসম্মত আর কোনটা কেবলই লৌকিক প্রথা, তা চিনে নেওয়া জরুরি।
ইসলামের অন্যতম বিধান অজু—নামাজের জন্য প্রতিদিন অজু করতে হয়। রাসুল (সা.)-এর অজুর পদ্ধতি, পানি ব্যবহারের পরিমাণ, ধোয়া- মাসাহের ধরন এবং অজুর দোয়া—হাদিসভিত্তিক এসব বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে।
সম্মান শুধু কথায় নয়, মনোযোগেও প্রকাশ পায়। যখন আমরা কারও সঙ্গে কথা বলি, তখন সে বারবার ফোনের স্ক্রিন দেখলে কথোপকথনের সৌন্দর্য নষ্ট হয়।
সুস্থ না থাকলে মানুষ ঠিকমতো পার্থিব কাজ যেমন করতে পারে না, তেমনি ধর্মীয় দায়িত্বও পালন করতে পারে না। নিজেকে সুস্থ রাখতে দরকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা।
অনেকেই প্রতিদিন নামাজে বা অন্য প্রয়োজনে মসজিদে যাতায়াত করি, কিন্তু এর আদব ও সুন্নাহ পালনে যথেষ্ট সচেতন নই। এই ছোট ছোট সুন্নাহ মসজিদে প্রবেশকে করে তোলে বরকতময়।
আশুরার একটি বিশেষ আমল হলো রোজা পালন করা। রাসুল (সা.) এ আমলের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন এবং এর গুরুত্বপূর্ণ ফজিলতের কথা বর্ণনা করেছেন।