ঘুমের গুণমান ও সময় বিশ্লেষণে বর্তমানে স্লিপ ট্র্যাকার বা স্মার্টওয়াচের ব্যবহার ব্যাপক। হাতের কবজিতে পরা এই যন্ত্রগুলো রাতভর হৃৎস্পন্দন ও শারীরিক নড়াচড়া ট্র্যাক করে ব্যবহারকারীকে জানায় তিনি কখন ঘুমে মগ্ন ছিলেন এবং কতবার জেগে উঠেছেন। নিয়মিত এই তথ্যের ভিত্তিতে স্বাস্থ্যকর ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলা যায় বলে বিশ্বাস করা হয়। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রযুক্তিগতভাবে ঘুমের সময় হিসাব করলেও মানুষ আসলে কতটা আরামদায়ক অনুভব করছেন—তা ধরা সম্ভব নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনার ডিউক ইউনিভার্সিটির পালমোনোলজিস্ট ডা. নরাত শ্রীভালি ও মায়ো ক্লিনিকের গবেষক ডা. উইসিত চুয়েংপাসিতপর্নো পাঁচটি গবেষণার প্রায় দুই হাজার মানুষের তথ্য পর্যালোচনা করে এ ধারণায় পৌঁছেছেন। তাদের পর্যবেক্ষণে মানসিক চাপ, ঘুম নিয়ে দুশ্চিন্তা বা সকালে ঘুম থেকে উঠে কেমন লাগছে—এসব ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা যন্ত্র সরাসরি মাপতে পারে না।

বয়স্ক ব্যক্তি ও বিষণ্নতায় ভোগা মানুষের ক্ষেত্রে যন্ত্রের তথ্যের সঙ্গে নিজের ঘুমের অনুভূতির অমিল বেশি দেখা গেছে। গবেষকেরা বলছেন, সুস্থ মানুষের ঘুমের সময় বোঝার ক্ষেত্রে এসব যন্ত্র সহায়ক হতে পারে। তবে ঘুমের সমস্যা থাকলে শুধু স্মার্টওয়াচের তথ্যের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।