রাতে গভীর ঘুমে থাকাকালীন হঠাৎ পায়ের পেশিতে তীব্র টান ধরলে ঘুম ভেঙে যায়। আবার কখনো বা পায়ে ঝিনঝিন ভাব, অসাড়তা বা জ্বালাপোড়া শুরু হয়ে রাতের নিদ্রা নষ্ট হয়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরে বিভিন্ন ধরনের ব্যথা ও অস্বস্তির সমস্যা দেখা দেয়। অনেকেই মনে করেন, এসব সমস্যার মূল কারণ পেশি বা হাড়ের ক্ষতি। তবে সব ক্ষেত্রে এটি সত্য নয়। শরীরে প্রয়োজনীয় কিছু ভিটামিন ও খনিজের অভাবেও পেশি ও স্নায়ুজনিত নানা উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

বিশেষ করে রাতে ঘুমের মধ্যে পায়ে বারবার খিঁচুনি, ঝিনঝিন ভাব বা ব্যথা হলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। এর পেছনে পুষ্টির ঘাটতির পাশাপাশি অন্য কোনো শারীরিক সমস্যাও থাকতে পারে। ভারতের চিকিৎসক শালিনী সিং সালুঙ্কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা একটি ভিডিওতে তিনি এই বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য শরীরে ভিটামিন ও খনিজের পর্যাপ্ত উপস্থিতি অপরিহার্য। এই উপাদানগুলোর ঘাটতি হলে পেশিতে খিঁচুনি, দুর্বলতা বা অসাড়তার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

ভিটামিন ডি: শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ এবং পেশির স্বাভাবিক কাজকর্ম বজায় রাখতে ভিটামিন ডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই ভিটামিনের ঘাটতি হলে পেশি ও হাড়ে ব্যথা, পেশির দুর্বলতা এবং মাঝেমধ্যে পেশিতে টান বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে ভিটামিন ডির ঘাটতি পেশির দুর্বলতার সাথে সম্পর্কিত হতে পারে, যা চলাফেরায় সমস্যা এবং পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

ভিটামিন বি১২: লোহিত রক্তকণিকা তৈরি এবং স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যকারিতার জন্য ভিটামিন বি১২ জরুরি। এর ঘাটতি হলে পা ও পায়ের পাতায় ঝিনঝিন করা, অসাড়তা বা জ্বালাপোড়ার মতো অনুভূতি তৈরি হতে পারে। ঘাটতি বেশি হলে ভারসাম্য রক্ষায় সমস্যা, দুর্বলতা এবং স্নায়ুজনিত ব্যথার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে। তাই দীর্ঘদিন ধরে পায়ে ঝিনঝিন বা অসাড়তা থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

ভিটামিন বি১ বা থায়ামিন: শরীরে শক্তি উৎপাদন এবং স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য ভিটামিন বি১ বা থায়ামিন প্রয়োজন। এর ঘাটতি হলে পেশির দুর্বলতা, ক্লান্তি, পায়ে জ্বালাপোড়া বা অন্যান্য স্নায়ুজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। ঘাটতি গুরুতর হলে পেশির দুর্বলতা আরও বাড়তে পারে এবং হাঁটাচলায়ও সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ভিটামিন ই: শরীরে ভিটামিন ই-এর ঘাটতি তুলনামূলকভাবে বিরল। তবে ঘাটতি হলে স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত হতে পারে। এর ফলে পেশির দুর্বলতা, শরীরের নড়াচড়ার সমন্বয়ে সমস্যা এবং সংবেদনশীলতার পরিবর্তনের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। পায়ে অনুভূতি কমে যাওয়া বা চলাফেরায় সমন্বয়ের সমস্যা থাকলে শুধু ভিটামিনের ঘাটতি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। এ ধরনের উপসর্গের অন্য কারণও থাকতে পারে।

আয়রন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান: আয়রনের ঘাটতি থেকে রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া হলে শরীরে দুর্বলতা ও ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে পায়ে অস্বস্তি বা অস্থিরতার অনুভূতিও হতে পারে। এ ছাড়া ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম ভিটামিন নয়, এগুলো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও ইলেকট্রোলাইট। পেশির সংকোচন ও শিথিলতার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় এদের ভূমিকা রয়েছে। শরীরে এসব উপাদানের ভারসাম্য নষ্ট হলে পেশিতে খিঁচুনি বা টান ধরার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসকের পরামর্শ:
পায়ে মাঝেমধ্যে টান ধরা সবসময় কোনো ভিটামিন বা খনিজের ঘাটতির লক্ষণ নয়। দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে থাকা, অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম, পানিশূন্যতা, কিছু ওষুধ এবং বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণেও পেশিতে খিঁচুনি হতে পারে। তবে পায়ে বারবার বা দীর্ঘদিন ধরে টান ধরা, ঝিনঝিন বা অসাড়তা থাকা, পেশির দুর্বলতা, হাঁটতে সমস্যা কিংবা ব্যথা বাড়তে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক রক্ত পরীক্ষা বা অন্যান্য পরীক্ষার মাধ্যমে সমস্যার কারণ শনাক্ত করতে পারেন।

নিজে থেকে ভিটামিন বা খনিজের সাপ্লিমেন্ট শুরু না করে আগে ঘাটতি আছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া ভালো। কারণ প্রয়োজনের অতিরিক্ত কিছু ভিটামিন বা খনিজ গ্রহণ করাও শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

সূত্র: নিউজ ১৮