মুমিন কেন হতাশ হন না: জীবনযুদ্ধের সাতটি দিকনির্দেশনা
মুমিনের জীবনে হতাশার কোনো স্থান নেই। পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক, আল্লাহর রহমত তার চেয়েও বিস্তৃত। কোরআন ও হাদিসের আলোকে হতাশা মুক্তির সাতটি পথনির্দেশনা আলোচনা করা হয়েছে।
মুমিনের জীবনে হতাশার কোনো স্থান নেই। পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক, আল্লাহর রহমত তার চেয়েও বিস্তৃত। কোরআন ও হাদিসের আলোকে হতাশা মুক্তির সাতটি পথনির্দেশনা আলোচনা করা হয়েছে।
একটি বরকতময় ও শান্তিময় দাম্পত্য জীবনের জন্য ইসলাম শুধু বয়সের প্রাপ্তিকে যথেষ্ট মনে করে না; বরং আত্মিক, মানসিক ও ফিকহি প্রস্তুতির ওপর বিশেষ জোর দেয়।
সামাজিক, ধর্মীয় বা পেশাগত অবস্থান নির্বিশেষে প্রতিবেশীর অধিকার রক্ষা করা ইসলামের এক অপরিহার্য দাবি এবং পূর্ণাঙ্গ ইমানের শর্ত।
কোনো যুগল যখন ইসলামের নির্ধারিত সীমারেখা অতিক্রম করে বিবাহবহির্ভূত ঘনিষ্ঠতায় জড়িয়ে পড়ে, তখন অন্তরে জন্ম নেয় তীব্র আত্মগ্লানি ও মানসিক অস্থিরতা।
প্রকৃতি তখন মানুষের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, আবার মানুষের সম্পূর্ণ মালিকানাধীন দৌলতও নয়। মানুষ তার শুধু ভোক্তা নয়; সে খলিফা। আর খিলাফতের অর্থ আধিপত্য নয়; আমানতদারি।
চিকিৎসাবিজ্ঞান, মহাকাশ অভিযান, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতি দেখে অনেকে সদম্ভে ঘোষণা করছে, ‘মানুষ আজ প্রকৃতিকে জয় করেছে, এখানে স্রষ্টার আর কোনো ভূমিকা নেই!’
একজন মানুষ কীভাবে কথা বলে, শব্দ নির্বাচনে কতটা সতর্ক থাকে এবং অপ্রয়োজনীয় আলাপে কতটা সংযম বজায় রাখে, তা দিয়েই নির্ধারিত হয় তার আত্মিক গভীরতা ও চরিত্রের মান।
কোনো মা-বাবা যদি সন্তানকে দিনভর সত্য কথা বলার উপদেশ দেন, অথচ নিজেরা কথায় কথায় মিথ্যা বলেন—তবে শিশুর চোখে সেই উপদেশের কোনো মূল্য থাকে না।
একজন মানুষের চরিত্র বোঝার অন্যতম বাস্তব ক্ষেত্র হলো তার প্রতিবেশীর সঙ্গে আচরণ। কারণ, প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক আমাদের দৈনন্দিন জীবনে চরিত্রের এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
কোনো ব্যবসায় প্রথম টাকাটি খাটাতে যাওয়ার আগে একজন বিশ্বাসী মানুষের মনে এই স্পষ্ট উদ্দেশ্য থাকা দরকার যে সে আসলে কী অর্জন করতে চায়।
‘আল্লাহ বোধহয় আমাকে আর ক্ষমা করবেন না’, ‘আমার দ্বারা ভালো কিছু সম্ভব নয়’—জীবনের কঠিন সময়ে এমন হতাশা আমাদের অনেকের মনেই ভর করে।
দৃশ্যমান এই বিশ্বজগতের বাইরে এক পরম পবিত্র, নিষ্কলুষ ও পরাক্রমশালী জগৎ রয়েছে, যার বাসিন্দারা হলেন মহান আল্লাহর অনন্য সৃষ্টি ‘মালাইকা’ বা ফেরেশতাকুল।
হেদায়েত আল্লাহ–তাআলার এক বিশেষ দান। যে অন্তর সততা, খোদাভীতি ও বিনয় নিয়ে কোরআনের মুখোমুখি হয়, শুধু সে অন্তরই কোরআনের আলোয় উদ্ভাসিত হতে পারে।
যেখানে পাপকর্মে লিপ্ত হওয়ার সব সুযোগ থাকা সত্ত্বেও শুধু আল্লাহর ভয়ে নিজেকে সংযত রাখা এবং প্রবৃত্তির চেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেওয়াই হলো খাঁটি মুত্তাকির বৈশিষ্ট্য।
আমাদের অসংখ্য ত্রুটিবিচ্যুতি মানুষের দৃষ্টি থেকে আল্লাহ আড়াল করে রেখেছেন। নাহলে অন্যের দিকে আঙুল তোলার সাহস আমাদের কারও থাকত না।
কেউ প্রশংসা করলে মনে রাখা উচিত, তার জীবনের এমন অনেক বিষয় আছে, যা অন্যরা জানে না। অথচ আল্লাহ তার প্রকাশ্য ও গোপন সবই জানেন।
পবিত্র কোরআনের দ্বিতীয় সুরা ‘আল-বাকারা’-তে মানব ইতিহাসের এমন অনেক সংকট ও তার সমাধানমূলক শিক্ষা ছড়িয়ে রয়েছে, যা সুদৃঢ় বিশ্বাস অর্জনে আমাদের সহায়তা করবে।
মুমিনের জীবনের অন্যতম প্রধান সাধনা হওয়া উচিত আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা এবং তাঁর অসন্তুষ্টি থেকে নিজেকে রক্ষা করা। হাদিসে এমন কিছু আমলের কথা এসেছে।
পরকালের চিরন্তন সফলতা নির্ভর করে দুনিয়ার জীবনে সম্পাদিত সৎকর্মের ওপর। তাই প্রয়োজন ইহজীবন ও পরজীবনের মধ্যে চমৎকার ভারসাম্য বজায় রাখা।
আল্লাহকে ভুলে গেলে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। যে জীবনকে আল্লাহ আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহের সুযোগ হিসেবে দিয়েছেন, সেটিই তখন চূড়ান্ত গন্তব্য বলে মনে হয়।
আমরা তথ্য ও জ্ঞানকে এক করে ফেলছি। ইসলামে জ্ঞান অর্জন শুধু মস্তিষ্ককে তথ্যে সমৃদ্ধ করার বিষয় নয়; বরং তা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের প্রধানতম আত্মিক মাধ্যম।
সে কখনোই মানুষকে সরাসরি গিয়ে বলে না যে ‘তুমি পাপ করো’। বরং সে পাপের কাজকে কল্যাণকর ও সাময়িক প্রয়োজন হিসেবে উপস্থাপন করে মানুষকে ধোঁকা দেয়।
কখনো না বুঝে, কখনো অসচেতনতায়, আবার কখনো মনস্তাত্ত্বিক প্ররোচনায় আমরা এমন কিছু করে ফেলি, যার জন্য পরবর্তী সময় গভীর অনুশোচনা জাগে।
ইসলামে বিরতি বা ছুটি কাটানো কোনো অন্যায় নয়; বরং এটিকে যদি সঠিক নিয়তে ও পরিকল্পনামতো কাজে লাগানো যায়, তবে তা মানসিক শক্তি পুনরুদ্ধারে দারুণ ভূমিকা রাখে।