ইরান যুদ্ধে ভুগছে সবাই, যুক্তরাষ্ট্র কতটা সুবিধায় আছে
যুক্তরাষ্ট্রের শুরু করা ইরান যুদ্ধে বিশ্ব অর্থনীতি ওলটপালট হলেও সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের শুরু করা ইরান যুদ্ধে বিশ্ব অর্থনীতি ওলটপালট হলেও সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইসলামাবাদে প্রথম বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফা আলোচনা রয়েছে অনিশ্চয়তায়। মার্কিন প্রসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তেহরানের একের পর এক অপরিপক্ব ও অগোছালো বক্তব্য এ পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত নয়টি উড়োজাহাজ ভূপাতিত বা ধ্বংস হয়েছে। বিবিসির তালিকায় ৫ এপ্রিল থেকে ২ মার্চের মধ্যে এফ–১৫ই, ই-৩ সেন্ট্রি, কেসি-১৩৫সহ বিভিন্ন ধরনের বিমানের ঘটনা উল্লেখ আছে। ছবি বিশ্লেষণ ও মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
রয়টার্স/ইপসোস জরিপে দেখা গেছে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে সাধারণ মার্কিনরা হতাশ এবং নেতিবাচক। চারজনের মধ্যে তিনজনের বেশি স্থল সেনা পাঠানোর বিরোধী। যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বাড়ছে, মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ইসরায়েলের প্রযুক্তি খাতে গুরুতর কর্মীসংকট দেখা দিয়েছে। ইসরায়েল ইনোভেশন অথরিটির জরিপে দেখা গেছে, অর্ধেক প্রতিষ্ঠানে জনশক্তির ২৫ শতাংশের বেশি কর্মী অনুপস্থিত। এতে পণ্য উন্নয়ন, আমদানি ও বিনিয়োগ সবকিছুতে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
এক মাস ধরে চলছে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত। এই যুদ্ধে কি কেউ সত্যিকার বিজয়ী হবে, নাকি জয়-পরাজয় আপেক্ষিক? হরমুজ প্রণালী ও আন্তর্জাতিক তত্ত্বের আলোকে লেখক বিশ্লেষণ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব দ্রুত’ ইরান থেকে সরে আসবে এবং প্রয়োজনে আবার ফিরে ‘স্পট হিট’ দেবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ন্যাটোর প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথাও বিবেচনা করছেন। ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংসের পর সরকার পরিবর্তন ও চুক্তির সম্ভাবনা দেখছেন তিনি।
মার্কিন অর্থমন্ত্রীর ‘জুজুৎসু’ মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ রেখে অভাবনীয় ছাড় আদায় করেছে। আমেরিকার নিজস্ব কৌশলই এখন তার বিরুদ্ধে ফিরে আসছে। এটি ২০১৫-এর পারমাণবিক চুক্তির চেয়েও কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
যুদ্ধের এক মাস পরও ইরান পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং আগ্রাসনকারীদের শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে পূর্ণ সার্বভৌমত্ব দাবি করেছে তেহরান। পাকিস্তানসহ মুসলিম দেশগুলো কূটনৈতিক উদ্যোগ নিচ্ছে যুদ্ধ বন্ধে।
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু সরকারের অনেকেই ইতিমধ্যে বলে ফেলেছেন, ওল্ড টেস্টামেন্টে ‘আর্মাগেডন’ বা ‘চূড়ান্ত যুদ্ধের’ প্রেক্ষাপট ইরান যুদ্ধের মধ্য দিয়েই সূচিত হতে যাচ্ছে।
বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে অস্থিরতা শুরু হয়েছে, সেটা ইরান যুদ্ধ নিয়ে যে কোনো পূর্বাভাসেই বলা হয়েছিল।
ইরান যুদ্ধের কারণে তেলের দামের এই উল্লম্ফন রাশিয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দেশটির জন্য বড় অর্থনৈতিক আশীর্বাদ হিসেবে এসেছে। কারণ, ইউক্রেনে চার বছরের যুদ্ধের খরচ রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট তৈরির উপক্রম হয়েছিল।