যুদ্ধ শুরু হওয়ার এক মাস পেরিয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যত তাড়াতাড়ি জয়লাভ করবে ভেবেছিল, তা হয়নি। ইরান বরং পাল্টা আঘাত চালিয়ে যাচ্ছে। গতকাল সোমবার ইসরায়েলের দিকে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। একই সঙ্গে ‘আগ্রাসনকারীকে’ শাস্তি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মজিদ ইবনে রেজা বলেছেন, হামলার মুখে প্রতিরোধ অব্যাহত রাখবেন তারা।

ইসরায়েলও তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ব্যাপক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত স্থাপনায় আঘাত হেনেছে তারা। কিন্তু ইসরায়েলও নিরাপদ নয়। ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে রকেট হামলা বাড়িয়েছে। এছাড়া ইয়েমেন থেকে ইরান-সমর্থিত হুতিরা প্রথমবার ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

যুদ্ধের শুরুতে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি ও সৈন্য অবস্থানকে লক্ষ্য করেছিল। পরে জ্বালানিক্ষেত্রের মতো বেসামরিক স্থাপনাও হামলার তালিকায় এসেছে। যুদ্ধের পরিধি এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।

জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে এ যুদ্ধ। এটি থামানোর জন্য কূটনৈতিক চেষ্টা চলছে। পাকিস্তান, তুরস্ক, মিসর, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা গতকাল সোমবার ইসলামাবাদে বৈঠক করেছেন। ওয়াশিংটন ও তেহরানকে সরাসরি আলোচনায় বসানো তাদের উদ্দেশ্য। গত রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ‘সরাসরি ও পরোক্ষভাবে’ আলোচনা করছে।

অনমনীয় ইরান

গতকাল ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানায়, ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মজিদ ইবনে রেজা তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে বলেছেন, তেহরান ‘আগ্রাসনকারীদের শাস্তি দেওয়া, প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি রোধে’ কাজ চালিয়ে যাবে। তেহরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব দাবি করা হয়েছে।

ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিলে জ্বালানির বিশ্ববাজারে চরম অস্থিরতা দেখা দেবে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে যায়। ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী ইসরায়েলে হামলায় যোগ দেওয়ায় বাব আল-মান্দেব প্রণালির মতো আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ অবরুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাতে লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

ট্রাম্প আলোচনার কথা বললেও মধ্যপ্রাচ্যে আরও মার্কিন সেনা পাঠাচ্ছেন। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের গালিবাফ। তাঁর অভিযোগ, একদিকে ওয়াশিংটন আলোচনার কথা বলছে, অন্যদিকে স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে। স্থল অভিযান হলে ইরান প্রস্তুত বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, তাঁদের ভূখণ্ডে নামলে মার্কিন সেনারা ‘বৃষ্টির মতো’ গুলিবর্ষণের শিকার হবেন।

‘ফলপ্রসূ আলোচনা’

যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতায় মূল ভূমিকায় এসেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদে গতকাল মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বৈঠক করেন। পাকিস্তান জানিয়েছে, একটি ‘ফলপ্রসূ আলোচনার’ আয়োজন করতে যাচ্ছে তারা। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এতে অংশ নিতে রাজি হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।