গত বুধবার টেলিভিশনে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলার ব্যাখ্যা দিতে হাজির হয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই ভাষণে তিনি ইরানের ওপর তীব্র বোমাবর্ষণ করে দেশটিকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফেরত পাঠানোর হুমকি দেন।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য অর্জিত হবে। কিন্তু যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের অবস্থা নিয়ে সাধারণ মার্কিনরা হতাশা প্রকাশ করেছেন।

রয়টার্স/ইপসোসের সম্প্রতি এক জরিপে ইরান যুদ্ধ নিয়ে সাধারণ মার্কিনদের হতাশা ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট হয়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের বেশিরভাগ বলেছেন, তারা মার্কিন সেনাদের নিয়ে উদ্বিগ্ন। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে তাদের ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়েও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠেছে।

প্রায় অর্ধেকে মনে করেন, এ যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা আরও কমিয়ে দেবে এবং ইরানের মানুষের জীবনযাত্রার মান আরও খারাপ হবে। জরিপে অংশ নেওয়া চারজনের মধ্যে তিনজনের বেশি মানুষ মার্কিন স্থল সেনাদের ইরানে পাঠানোর বিপক্ষে। ইরানে আক্রমণের বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা সেখানে স্থল সেনা পাঠানোর কথা বিবেচনা করছেন।

বাজারবিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের ভাষণের পরদিন বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যায়। ফলে আগামী সপ্তাহে দেশটিতে খুচরা তেলের দাম গড়ে প্রতি গ্যালন ৪ দশমিক ২৫ ডলার থেকে ৪ দশমিক ৪৫ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ট্রাম্পের হুমকির জবাবে সতর্ক করে ‘আরও বিধ্বংসী, বিস্তৃত ও ধ্বংসাত্মক’ হামলার হুমকি দিয়েছে। তেহরান ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালি বন্ধে তার সক্ষমতা দেখিয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, বিশ্ববাজারে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহের ওপর এর প্রভাব আরও গভীর হবে।