কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় এক হতাশাজনক চিত্র সামনে এসেছে। বোর্ডের ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একজন পরীক্ষার্থীও পাস করতে পারেননি। উল্লেখ্য যে, গত বছর এমন শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৯টি। অর্থাৎ, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে এই ধরনের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৬টি বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা পাঁচটি থেকে কমে এখন দাঁড়িয়েছে চারটিতে।
আজ শনিবার বেলা ১১টায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. শফিকুল ইসলাম। এবারের ফলাফলে দেখা গেছে, পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৮ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশে, যা গত বছর ছিল ৪৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ। সেই হিসেবে পাসের হার কমেছে শূন্য দশমিক ৮২ শতাংশ।
জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও এবার বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৩১৩ জন শিক্ষার্থী, যা গত বছরের তুলনায় ১ হাজার ৩৯৪ জন কম। জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্রী ৮২১ জন এবং ছাত্র ৪৯২ জন। ফলে জিপিএ-৫ পাওয়ার দৌড়ে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরাই এগিয়ে রয়েছে।
যে ১৫টি প্রতিষ্ঠানে এবার একজনও পাস করতে পারেননি, সেগুলো হলো— চাঁদপুর সদর উপজেলার চাঁদপুর পৌর শহীদ জাভেদ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার ডা. এম. শামসুল হক মডেল কলেজ, কুমিল্লার লালমাই উপজেলার সুরুজ মেমোরিয়াল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার প্রফেসর সেকান্দর আলী ভূঁইয়া গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বগৈড় বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার কেমব্রিজ সিটি কলেজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মোমতাজ উদ্দিন আলোকিত কলেজ ও লক্ষ্মীপুর পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ ও ফজুমিয়ারহাট হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার জিনদপুর ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও বীরগাঁও স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ফেনী সদর উপজেলার বেগম সামছুন্নাহার গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও বিকন মডেল কলেজ এবং নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আপার মডেল কলেজ। জানা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ থেকে ৭ জনের মধ্যে।
অন্যদিকে, শতভাগ সাফল্যের স্বাক্ষর রাখা চারটি প্রতিষ্ঠান হলো কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ময়নামতি ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ, মেঘনা উপজেলার মুজাফফর আলী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ফেনী সদর উপজেলার ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ।
শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক মোহাম্মদ সিপন মিয়া বলেন, “এসব প্রতিষ্ঠানকে নিবিড় পর্যবেক্ষণের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষকেরা নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন কি না, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কেমন এবং পাঠদানের পদ্ধতি যথাযথ কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
ফলাফলের সার্বিক অবনতির কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মোহাম্মদ সিপন মিয়া জানান, ইংরেজি ও উচ্চতর গণিতে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা একটি বড় কারণ। তিনি বলেন, “উচ্চতর গণিতের প্রতি শিক্ষার্থীদের ভীতি রয়েছে, ইংরেজিতেও তারা প্রত্যাশিত ফল করতে পারেনি।” এই সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কলেজপ্রধানদের নিয়ে সেমিনার আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে পৃথক সেমিনারে ভালো ফলাফল ধরে রাখার উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
কুমিল্লা, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনী জেলা নিয়ে গঠিত এই কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার ৬ জেলার ১৯৩টি কেন্দ্রে মোট ৯২ হাজার ১৬২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে ছাত্রী ছিলেন ৫৫ হাজার ৪৩৪ জন এবং ছাত্র ৩৬ হাজার ৭২৮ জন। চূড়ান্তভাবে পাস করেছেন ৪৪ হাজার ২৭২ জন। পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রী ২৮ হাজার ৪১৫ জন এবং ছাত্র ১৫ হাজার ৮৫৭ জন। ছাত্রীদের পাসের হার ৫১ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং ছাত্রদের পাসের হার ৪৩ দশমিক ১৭ শতাংশ। গত পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পাসের হার ৯০ দশমিক ৭২ শতাংশ থেকে কমে বর্তমানে ৪৮ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশে নেমে এসেছে, যা এই সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন।