২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় এক অভাবনীয় ও হতাশাজনক চিত্র সামনে এসেছে। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে থাকা ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি, অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানগুলোতে শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কারণ উদঘাটন এবং বিস্তারিত অনুসন্ধানের জন্য তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

যে প্রতিষ্ঠানগুলোতে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি, তাদের তালিকায় রয়েছে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার চাঁদপুর পৌর শহীদ জাভেদ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কুমিল্লার লালমাই উপজেলার সুরুজ মেমোরিয়াল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার কেমব্রিজ সিটি কলেজ।

এছাড়া এই তালিকায় স্থান পেয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার জিনদপুর ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও বগোইর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ; লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ; চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার ডা. এম. শামসুল হক মডেল কলেজ এবং ফেনী সদর উপজেলার বেগম শামসুন নাহার গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

একইভাবে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. মমতাজ উদ্দিন আলোকিত কলেজ ও প্রফেসর সেকান্দার আলী ভূঁইয়া গার্লস হাই স্কুলও এই অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আপার মডেল কলেজ, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কমলনগর উপজেলার ফজুমিয়ার হাট হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বীরগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ফেনী সদর উপজেলার বেকন মডেল কলেজ।

শূন্য পাসের এই চরম সংকটে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল উন্নয়নে নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বোর্ডের সচিব অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, “এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম এবং অভিভাবক সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।”

তদন্ত প্রক্রিয়ার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, “এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী কেন পাস করতে পারেননি, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”