চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় এক হতাশাজনক চিত্র সামনে এসেছে ফেনী জেলায়। জেলার দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এই দুই প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে। এর মধ্যে একটি কলেজ থেকে সাতজন এবং অন্যটি থেকে তিনজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় বসেছিল।

শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া প্রতিষ্ঠান দুটি হলো ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের জোয়ার কাছাড় গ্রামের বিকন মডেল কলেজ এবং লস্করহাট এলাকার বেগম সামসুন নাহার স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এই দুই প্রতিষ্ঠানের এমন শোচনীয় ফলাফল শিক্ষাসংশ্লিষ্ট মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের দেওয়া তথ্যানুসারে, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় বিকন মডেল কলেজ থেকে মোট সাতজন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে তিনজন, মানবিক বিভাগে তিনজন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে একজন শিক্ষার্থী ছিল। তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, তাদের কেউই পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি।

একইভাবে, বেগম সামসুন নাহার স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে তিনজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তাদের তিনজনেই অকৃতকার্য হয়েছে।

ফলাফলের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বিকন মডেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এস এম মাসুম বিল্লাহ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “এ বছর আমাদের যারা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে, তারা সবাই অনিয়মিত পরীক্ষার্থী ছিল। আগামী বছর থেকে আশানুরূপ ফলাফল করার চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ।”

অন্যদিকে, বেগম সামসুন নাহার স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ এমরানুল হক মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “এবার ইংরেজি বিষয়ে আমাদের শিক্ষার্থীরা দুর্বল ছিল। মাঝখানে আমাদের ইংরেজি শিক্ষক ছিলেন না। এ ছাড়া একজন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেও পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। আগামীতে আরও ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য আমরা নানা পদক্ষেপ নেব।”

এই সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে ফেনী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিউল্লাহ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “ফেনী জেলায় দুটি কলেজে পাসের হার শূন্য। এ বিষয়ে সরকারি বিধিবিধান ও নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”