২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় এক হতাশাজনক চিত্র সামনে এসেছে। যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে খুলনা জেলার ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। শুধু খুলনা নয়, সামগ্রিকভাবে যশোর শিক্ষা বোর্ডের আওতাভুক্ত মোট ১৬টি প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। এই চরম ব্যর্থতার ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান পদ্ধতি এবং শিক্ষার মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত অনুমোদিত ফলাফল তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, খুলনার যে ছয়টি প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাসের হার দেখা গেছে সেগুলো হলো— ডুমুরিয়া মডেল মহিলা কলেজ, ইন্ডিপেনডেন্ট আইডিয়াল কলেজ, পাইকগাছার কপিলমুনি সহচরী বিদ্যা মন্দির, কয়রার শাকবাড়িয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রূপসার কমরেড রতন সেন কলেজিয়েট গার্লস কলেজ এবং খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলস স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এই প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে যথাক্রমে ৩, ১১, ৩, ২৯, ১ ও ১২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও তাদের কেউই সফল হতে পারেননি।
সবচেয়ে করুণ দশা দেখা গেছে কয়রার শাকবাড়িয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্ষেত্রে। এই প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বোচ্চ ২৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন এবং সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন।
এই বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ এস এক আকবর হোসেন বলেন, “আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে এবার ২৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। তারা লেখাপড়ায় চরম অমনোযোগী ছিল এবং নিয়মিত কলেজে আসত না। প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পরও অভিভাবকদের অনুরোধে সবাইকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এ কারণে এমন ফল হয়েছে।”
এদিকে, এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কয়রা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রোকশানা পারভীন। তিনি বলেন, “একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে, পাইকগাছার কপিলমুনি সহচরী বিদ্যা মন্দিরের ফলাফলও হতাশাজনক। এবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়া তিনজনের কেউই পাস করতে পারেননি। উল্লেখ্য, গত বছরও এই প্রতিষ্ঠান থেকে পাঁচজন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন এবং তাদের কেউই উত্তীর্ণ হননি। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন সঞ্জয় কুমার মণ্ডল এবং এর পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত রয়েছেন খুলনা জেলা প্রশাসক।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন জানান, ২০২৫ সালে শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল এবং তাদের বক্তব্য শোনা হয়েছে। তিনি বলেন, “কারণগুলো বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “এ বছরও শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। প্রয়োজনে এসব প্রতিষ্ঠানের অধিভুক্তি নবায়ন বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।”
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার মোট ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১৯৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন, যাদের একজনও পাস করতে পারেননি। তবে সব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল খারাপ নয়। খুলনার খলিশপুরের নেভি অ্যাঙ্করেজ স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৬১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছেন। এছাড়া বোর্ডের অধীনে শতভাগ পাসের গৌরব অর্জন করেছে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ এবং চুয়াডাঙ্গার ব্রাইট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ।