২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় এক বিপরীতধর্মী চিত্র সামনে এসেছে। যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে থাকা ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। তবে এই প্রতিকূলতার মাঝেও শতভাগ পাসের গৌরব ধরে রেখেছে মাত্র তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) যশোর বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত ফলাফলের বিস্তারিত বিশ্লেষণে এই তথ্যগুলো উঠে এসেছে।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শতভাগ পাসের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে তিনটি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ থেকে ৪৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন এবং তারা সবাই পাস করেছেন। একইভাবে খুলনার খালিশপুরের নেভি অ্যাংকরেজ স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৬১ জন এবং চুয়াডাঙ্গার ব্রাইট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে শতভাগ সাফল্যের সাথে পাস করেছেন।
অন্যদিকে, চরম ব্যর্থতার মুখে পড়েছে ১৬টি প্রতিষ্ঠান, যেখানে একজন পরীক্ষার্থীও পাস করতে পারেননি। এই শূন্য পাসের তালিকায় সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ছিল সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার এ. কে. ফজলুল হক এমসি কলেজে। ওই প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৪৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও একজনও পাস করতে পারেননি। এছাড়া নড়াইলের লোহাগড়ার মাকরাইল করিম খালেক সোলাইমান ইনস্টিটিউট থেকে ৪৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন এবং তারা সবাই ফেল করেছেন।
শূন্য পাসের তালিকায় আরও রয়েছে খুলনার কয়রা শাকবাড়িয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ (২৭ জন), ঝিনাইদহের মল্লিক শহিদুল ইসলাম কারিগরি কলেজ (১৯ জন), মাগুরার বুজ্রুক শ্রীকুন্ডি কলেজ (১৫ জন) এবং খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলস স্কুল অ্যান্ড কলেজ (১২ জন)। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো পরীক্ষার্থীই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
এছাড়া শূন্য পাসের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে খুলনার ইনডিপেনডেন্স আইডিয়াল কলেজ (১১ জন), যশোরের মণিরামপুরের সবুজ পল্লি কলেজ (৭ জন), কুষ্টিয়ার হাজি নুরুল ইসলাম কলেজ (৮ জন), খুলনার মডেল মহিলা কলেজ (৩ জন), সাতক্ষীরার ইসলামিয়া মহিলা কলেজ (৩ জন), মাগুরার গোপীনাথপুর এম. এ. খালেক স্কুল অ্যান্ড কলেজ (২ জন), খুলনার কপিলমুনি সহচরী বিদ্যা মন্দির (৩ জন), কুষ্টিয়ার জগন্নাথপুর আইডিয়াল কলেজ (১ জন), মেহেরপুরের মোরকা জাগরণ কলেজ (১ জন) এবং খুলনার কমরেড রতন সেন কলেজিয়েট গার্লস (১ জন)।