২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এবারের ফলাফলে দেশের ১৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সকল পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হয়েছেন। অন্যদিকে, এবার ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি, অর্থাৎ এই প্রতিষ্ঠানগুলো শূন্য পাসের তালিকায় রয়েছে।
গত বছরগুলোর সাথে তুলনা করলে দেখা যায়, শতভাগ পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। গত বছর ৩৫৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ পাস হয়েছিল। আর তার আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৩৮৮টি।
আজ শনিবার বেলা ১১টায় সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তাঁর উদ্বোধনের পরপরই ফলাফলগুলো অনলাইনে এবং নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে একযোগে প্রকাশ করা শুরু হয়।
প্রথমে ২৯ অক্টোবর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের কথা জানানো হলেও পরবর্তীতে তারিখ পরিবর্তন করে শনিবার নির্ধারণ করা হয়। আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, বোর্ড প্রকাশিত ফলাফল সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে https://eduboardresults.gov.bd এবং https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনলাইনের মাধ্যমে ফলাফল ডাউনলোড করে প্রকাশ করার জন্য ওই ওয়েবসাইটের রেজাল্ট কর্নারে ক্লিক করে বোর্ড ও প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএনের (প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি নম্বর) মাধ্যমে ফলাফল ডাউনলোড করতে হবে।
পরীক্ষার্থীরা তাদের ফলাফল সংগ্রহের জন্য শিক্ষা বোর্ডগুলোর কমন ওয়েবসাইট এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও তারা ফলাফল সংগ্রহ করার সুযোগ পাবেন।
এর পাশাপাশি, যেকোনো মুঠোফোন নম্বর থেকে ১৬১৪০ (16140) নম্বরে খুদে বার্তা পাঠিয়েও ফলাফল জানা সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ: HSC Dha 123456 2026 লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড বা কোনো পত্রিকা অফিসে ফলাফল পাওয়া যাবে না বলে জানানো হয়েছে।
উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণসহ পুনর্মূল্যায়নের জন্য আগামী ১ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে। আবেদনের বিস্তারিত প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল গত ২ জুলাই। এবার নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট ১২ লাখেরও বেশি পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। তবে জানা গেছে, পরীক্ষায় বেশ কিছুসংখ্যক পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন।