২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে এক উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে থাকা ৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই এই পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি, যার ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।

গত বছরের পরিসংখ্যানের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, শূন্য পাসের কলেজের সংখ্যা এবার চারটি বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে বোর্ডের সামগ্রিক পাসের হারেও বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত ফলাফলের তথ্যে এই বিষয়গুলো উঠে এসেছে।

বোর্ডের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালে রাজশাহী বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষায় মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৩৬ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাদের মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ৬১ হাজার ৮৯৪ জন, যা শতাংশের হিসেবে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশ। এ বছর জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন ৪ হাজার ৫২০ জন শিক্ষার্থী। বিপরীতে, ২০২৫ সালে এই বোর্ডে পাসের হার ছিল ৫৯ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১০ হাজার ১৩৭ জন। অর্থাৎ, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার ১৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ কমেছে এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যায়ও বড় ধরনের হ্রাস দেখা গেছে।

শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৬ সালে রাজশাহী বোর্ডে এমন কলেজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৯টিতে, যেখানে ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩৫টি। অন্যদিকে, শতভাগ পাসের ক্ষেত্রেও বড় বিপর্যয় ঘটেছে; ২০২৬ সালে মাত্র ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ পাস হয়েছে, অথচ ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ১৮টি। এর আগের বছরগুলোতে এই চিত্র ভিন্ন ছিল—২০২৪ সালে ৩৫টি এবং ২০২৩ সালে ৩৭টি কলেজের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছিলেন। ফলে শূন্য পাসের কলেজের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং শতভাগ পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা হ্রাস—উভয় সূচকই বোর্ডের ফলাফলের চরম অবনতি নির্দেশ করছে।

এই পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষাবিদ সহযোগী অধ্যাপক ফজলে রাব্বির অভিমত, শূন্য পাসের কলেজগুলো আলাদাভাবে চিহ্নিত করে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল পর্যালোচনা করা এখন অত্যন্ত জরুরি। তিনি মনে করেন, কোন বিষয়ে শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি অকৃতকার্য হয়েছে, পাঠদানের ক্ষেত্রে কোথায় ঘাটতি ছিল এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতির হার কেমন ছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে দুর্বল ফলাফল আসছে, সেখানে শিক্ষক সংকট, শিক্ষার মান, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ এবং সামগ্রিক একাডেমিক ব্যবস্থাপনা মূল্যায়ন করে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

তবে ফলাফলের এই অবনতির বিষয়ে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরী বলেন, “উত্তরপত্রের প্রকৃত মূল্যায়ন এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় কম মনোযোগী দায় করেছেন।”