চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত তথ্যানুসারে, এবার দেশের ১৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা শতভাগ সাফল্য অর্জন করেছেন। তবে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেননি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এই সব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফলের দিকে তাকালে দেখা যায়, এবার ২৯৩টি প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। গত বছরের তুলনায় এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত বছর শূন্য পাসের তালিকায় ছিল ২০২টি প্রতিষ্ঠান, যা এবার ৯১টি বেড়ে দাঁড়িয়েছে।

বরাবরের মতোই পাসের হারে এগিয়ে রয়েছেন ছাত্রীরা। তবে জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে ছাত্ররাই বেশি সফল হয়েছেন। এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিলেন, যাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন।

লিঙ্গভিত্তিক ফলাফলের হিসেবে দেখা গেছে, মোট উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫২৮ জন, যাদের পাসের হার ৫৬.৩১ শতাংশ। অন্যদিকে, ছাত্রদের মধ্যে পাস করেছেন ২ লাখ ৯০ হাজার ১৫৭ জন এবং তাদের পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৭.৭৫ শতাংশে।

এবারের পরীক্ষায় মোট ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। এর মধ্যে ২০ হাজার ৩৬৩ জন ছাত্র এবং ১৯ হাজার ৭২১ জন ছাত্রী সর্বোচ্চ জিপিএ পেয়েছেন।

তবে গত ১০ বছরের পরিসংখ্যানের সাথে তুলনা করলে দেখা যাচ্ছে, এবার পাসের হার সবচেয়ে কম। চলতি বছর গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে। ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন শিক্ষার্থী। সেই হিসেবে এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন।

উল্লেখ্য, গত ২ জুলাই থেকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছিল এবং তা শেষ হয় ৮ আগস্ট। নিয়ম অনুযায়ী ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার কথা ছিল।

তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রতিকূলতার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে স্থগিত থাকা পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ার ফলে ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।