২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে পাসের হারের দিক থেকে অনন্য সাফল্য অর্জন করে শীর্ষস্থান দখল করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। এই বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬১ দশমিক ০৭ শতাংশ।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে শিক্ষা বোর্ডগুলোর নিজস্ব ওয়েবসাইট, বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং এসএমএসের মাধ্যমে একযোগে এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
প্রকাশিত তথ্যানুসারে, এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। সারা দেশে মোট ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। এর মধ্যে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ৬১ দশমিক ০৭ শতাংশ পাসের হার নিয়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে এবং এই বোর্ডের ৩ হাজার ২৫০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। অন্যদিকে, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৪৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮৮৬ জন শিক্ষার্থী।
ফলাফলের তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরের তুলনায় মাদ্রাসা ও কারিগরি উভয় বোর্ডের ফলাফলই নিম্নমুখী। গত বছর মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭৫ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৪ হাজার ২৬৮ জন। একইভাবে, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে গত বছর পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ হাজার ৬১০ জন। অর্থাৎ, চলতি বছর এই দুই বোর্ডেই পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে।
বোর্ডভিত্তিক ফলাফলের বিস্তারিত চিত্র
সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলের দিকে তাকালে বরাবরের মতোই ভিন্নতা লক্ষ্য করা গেছে। সাধারণ বোর্ডগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ পাসের হার অর্জন করেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড, যেখানে পাসের হার ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ। অন্যদিকে, সর্বনিম্ন পাসের হার দেখা গেছে বরিশাল বোর্ডে, যেখানে পাসের হার মাত্র ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
অন্যান্য বোর্ডের ফলাফল অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ, ময়মনসিংহ বোর্ডে ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশ, সিলেট বোর্ডে ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ, কুমিল্লা বোর্ডে ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ, দিনাজপুর বোর্ডে ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ, রাজশাহী বোর্ডে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশ এবং যশোর বোর্ডে পাসের হার ছিল ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল গত ২ জুলাই থেকে। নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। তবে জানা গেছে, পরীক্ষা চলাকালীন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী বিভিন্ন কারণে পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার পাশাপাশি মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের শিক্ষার্থীরাও এই বছর পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন, যার মধ্যে সামগ্রিক পাসের হারে সর্বোচ্চ সাফল্য দেখিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড।