চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এই পরীক্ষায় অংশ নেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। এর মধ্যে ৩ লাখ ৮২ হাজার ২১ জন শিক্ষার্থী শুধুমাত্র ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে ফেল করেছেন।

ফলাফলের বিস্তারিত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮ জন এবং আইসিটি বিষয়ে ফেল করেছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৩ জন শিক্ষার্থী।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে। অর্থাৎ মোট পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন শিক্ষার্থী। উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের পর এবারই পাসের হার সবচেয়ে কম। ২০০৪ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৪৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। সেই সময়ের পর থেকে পাসের হার আর কখনও এত নিচে নামেনি। ফলে গত ২১ বছরের হিসেবে এবারই সবচেয়ে কম পাসের হার রেকর্ড করা হলো।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়। সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সারাদেশে একযোগে ফল প্রকাশের ঘোষণা দেন। ওই অনুষ্ঠানেই ফলাফলের সামগ্রিক সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয়।

অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য আশার কথা শুনিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, ফেল করা পরীক্ষার্থীদের আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, যে শিক্ষার্থী যে কয়টি বিষয়ে ফেল করেছেন, তাদের সেই নির্দিষ্ট বিষয়গুলোতে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ প্রদান করা হবে।