চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশে। এর অর্থ হলো, এই বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছেন। এবারের ফলাফলে জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন ২ হাজার ১৩৭ জন শিক্ষার্থী। জেলাভিত্তিক পাসের হারের হিসাবে চার জেলার মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ময়মনসিংহ জেলা এবং সবচেয়ে পিছিয়ে আছে জামালপুর জেলা।

গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে বোর্ডের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ফলাফল বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. শাহাদত উল্লাহ।

তিনি জানান, এবারের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য মোট ৭৩ হাজার ৪২০ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিলেন। তবে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ৭০ হাজার ৬৭৩ জন। এদের মধ্যে পাস করেছেন ৩৬ হাজার ৩৫৪ জন এবং বাকি ৩৪ হাজার ৩১৯ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন।

জেলাভিত্তিক ফলাফলের চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, ময়মনসিংহে পাসের হার ৫৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ। শেরপুরে এই হার ৪৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ, নেত্রকোনায় ৪৩ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং জামালপুরে পাসের হার ৪৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ। চার জেলার মধ্যে জামালপুরের পাসের হার সর্বনিম্ন। ময়মনসিংহের তুলনায় জামালপুরের পাসের হারের ব্যবধান প্রায় ১৬ শতাংশ পয়েন্ট। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ২ হাজার ১৩৭ জন শিক্ষার্থী সফল হয়েছেন, যার মধ্যে ছাত্র ১ হাজার ১৮ জন এবং ছাত্রী ১ হাজার ১১৯ জন। জিপিএ-৫ পাওয়ার দৌড়ে ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছেন।

লিঙ্গভিত্তিক ফলাফলের হিসাবে, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩৩ হাজার ৩৭ জন ছাত্রের মধ্যে পাস করেছেন ১৫ হাজার ৬৪৭ জন, যা শতকরা হিসেবে ৪৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ। অন্যদিকে, ৩৭ হাজার ৬৩৬ জন ছাত্রীর মধ্যে পাস করেছেন ২০ হাজার ৭০৭ জন। ছাত্রীদের পাসের হার ৫৫ দশমিক ০২ শতাংশ। ফলে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের পাসের হার ৭ দশমিক ৬৬ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি।

বোর্ডের অধীনে মোট ১১৩টি কেন্দ্রে ৩২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র পাঁচটিতে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করার গৌরব অর্জন করেছে। বিপরীতে ১৯টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পরীক্ষায় পাস করতে পারেননি।

বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আ.জ.ম. রেজাউল করিম খান বলেন, “সামগ্রিক ফলাফলের আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে। এ জন্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।”

উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কৃষিবিদ ড. আ.খ.ম. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মো. এনামুল হক। এছাড়া কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক এস.এম. আরিফুর রহমানসহ বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ময়মনসিংহের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী, বোর্ডে পাসের হার ছিল ৫১ দশমিক ৫৪ শতাংশ। মোট ৭৫ হাজার ৮৫৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছিলেন ৩৯ হাজার ৯৬ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ২ হাজার ৬৮৪ জন। ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে পাসের হার কমেছিল ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশীয় পয়েন্ট। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে পাসের হার ছিল ৬৩ দশমিক ২২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৪ হাজার ৮২৬ জন।