দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় অকৃতকার্য কলেজের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার শূন্য পাস করা কলেজের সংখ্যা বেড়েছে। গত বছর এই বোর্ডে শতভাগ অকৃতকার্য কলেজের সংখ্যা ছিল ৪৩টি, যা চলতি বছর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯টিতে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর প্রফেসর মো. বোরহান উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্যের কথা জানানো হয়েছে।

ফলাফলের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ২০২৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় ৪৩টি কলেজ থেকে মোট ১৮২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও তাদের কেউই পাস করতে পারেননি। অন্যদিকে, চলতি ২০২৬ সালে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন ৮টি জেলার ৪৯টি কলেজ থেকে মোট ২৯০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন, তবে তাদের কেউই সফল হতে পারেননি। অর্থাৎ, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে এই বোর্ডে শতভাগ অকৃতকার্য কলেজের সংখ্যা ৬টি বৃদ্ধি পেয়েছে।

চলতি বছর শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া কলেজগুলোর জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নীলফামারীর ১২টি কলেজের ১১৭ জন, কুড়িগ্রামের ৯টি কলেজের ৭০ জন, ঠাকুরগাঁওয়ের ৯টি কলেজের ৩৮ জন, লালমনিরহাটের ৬টি কলেজের ১৮ জন, দিনাজপুরের ৬টি কলেজের ১৭ জন, রংপুরের ৩টি কলেজের ১৭ জন, পঞ্চগড়ের ২টি কলেজের ১০ জন এবং গাইবান্ধার ২টি কলেজের ৩ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন, যাদের কেউই পাস করতে পারেননি।

অকৃতকার্য কলেজগুলোর তালিকায় রয়েছে— নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার ভেড়ভেরি মাঝাপাড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ (৫১ জন পরীক্ষার্থী), নয়নখাল স্কুল ও কলেজ (৩ জন পরীক্ষার্থী), সদর উপজেলার আদর্শ কলেজ (৪০ জন পরীক্ষার্থী), পঞ্চপুকুর স্কুল ও কলেজ (৬ জন পরীক্ষার্থী), রতনীবাড়ী স্কুল ও কলেজ (২ জন পরীক্ষার্থী), লক্ষিচাপা সৃজনশীল কলেজ (একজন পরীক্ষার্থী), গয়াখারবাড়ী মহিলা কলেজ (একজন পরীক্ষার্থী), ডোমার উপজেলার জমিরবাড়ী মহিলা মহাবিদ্যালয় (৫ জন পরীক্ষার্থী), বাগডোকরা নিমোজখান হাই স্কুল ও কলেজ (৩ জন পরীক্ষার্থী), জলঢাকা উপজেলার সামিরউদ্দীন আদর্শ হাই স্কুল ও কলেজ (২ জন পরীক্ষার্থী), ডিমলা উপজেলার আদাবারী স্কুল ও কলেজ (২ জন পরীক্ষার্থী), জেলা পরিষদ স্কুল ও কলেজ (একজন পরীক্ষার্থী); কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী আদর্শ মহিলা কলেজ (২৪ জন পরীক্ষার্থী), নাগেশ্বরী উপজেলার নাগেশ্বরী মহিলা কলেজ (১৫ জন পরীক্ষার্থী), কুটিপায়ড়াডাঙ্গা স্কুল ও কলেজ (৫ জন পরীক্ষার্থী), চিলাখানা মডেল কলেজ (৪ জন পরীক্ষার্থী), রাজারহাট উপজেলার সিংগার ডাবড়ীহাট কলেজ (১০ জন পরীক্ষার্থী), সিংগা ডাবরী হাট বিএল হাই স্কুল ও কলেজ (৬ জন পরীক্ষার্থী), পানঘারি লক্ষীপাড়া স্কুল ও কলেজ (একজন পরীক্ষার্থী), উলিপুর উপজেলার হজরত ফাতেমা (রা.) পৌর বালিকা স্কুল ও কলেজ (৩ জন পরীক্ষার্থী), চিলমারী উপজেলার দক্ষিণ খাউরিয়া স্কুল ও কলেজ (২ জন পরীক্ষার্থী); ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার হরিণমারী স্কুল এন্ড কলেজ (১২ জন পরীক্ষার্থী), মড়লহাট জনতা স্কুল ও কলেজ (একজন পরীক্ষার্থী) ও রত্নাই বাগুলাবাড়ী হাই স্কুল ও কলেজ (১ জন পরীক্ষার্থী), সদর উপজেলার কদম রসুল হাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ (৯ জন পরীক্ষার্থী), সালন্দর মহিলা কলেজ (৭ জন পরীক্ষার্থী), রানীশংকৈল উপজেলার ধুলঝাড়ি স্কুল ও কলেজ (২ জন পরীক্ষার্থী), গগর কলেজ (২ জন পরীক্ষার্থী), রাউতনগর স্কুল ও কলেজ (২ জন পরীক্ষার্থী) ও পীরগঞ্জ উপজেলার ইখতিয়ারপুর শহীদ সালাহ উদ্দীন স্কুল ও কলেজ (২ জন পরীক্ষার্থী); লালমনিরহাটের কালিগঞ্জ উপজেলার সোনারহাট স্কুল ও কলেজ (২ জন পরীক্ষার্থী), দুহুল এস.সি হাই স্কুল ও কলেজ (একজন পরীক্ষার্থী), দক্ষিণ ঘনশ্যাম স্কুল ও কলেজ (১ জন পরীক্ষার্থী), হাতিবান্ধা উপজেলার হাতিবান্ধা মডেল কলেজ (১১ জন পরীক্ষার্থী), আমিনুর রহমান কলেজ (১ জন পরীক্ষার্থী), আদিতমারী উপজেলার গন্ধমারুয়া স্কুল ও কলেজ (২ জন পরীক্ষার্থী); দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার কবিরাজহাট কলেজ (৮ জন পরীক্ষার্থী) ও সনকা আদর্শ কলেজ (৫ জন পরীক্ষার্থী), ফুলবাড়ী উপজেলার উত্তর লক্ষিপুর হাই স্কুল ও কলেজ (একজন পরীক্ষার্থী), বিরামপুর উপজেলার বেপারীতলা আদর্শ কলেজ (একজন পরীক্ষার্থী), হাকিমপুর উপজেলার পাউশগাড়া হাই স্কুল ও কলেজ (একজন পরীক্ষার্থী) ও বোয়ালদাড় স্কুল ও কলেজ (একজন পরীক্ষার্থী); রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার কাদিরাবাদ মহিলা কলেজ (১৫ জন পরীক্ষার্থী), আমাদপুর কলেজ (একজন পরীক্ষার্থী) ও পীরগাছা উপজেলার কান্দিরহাট স্কুল ও কলেজ (একজন পরীক্ষার্থী); পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার বোদা পাইলট বালিকা স্কুল ও কলেজ (৮ জন পরীক্ষার্থী) ও তেতুলিয়া উপজেলার আলহাজ্ব তমিজ উদ্দীন কলেজ (২ জন পরীক্ষার্থী) এবং গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার ফকিরহাট মহিলা কলেজ (২ জন পরীক্ষার্থী) ও সাঘাটা উপজেলার জুমারবাড়ী মহিলা কলেজ (একজন পরীক্ষার্থী)।