ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে থাকা ১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করতে পারেননি। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১০২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন, তবে তাঁদের প্রত্যেকেই অকৃতকার্য হয়েছেন। গত বছরের তুলনায় এবার শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা চারটি বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া সামগ্রিক পাসের হার এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যার দিক থেকেও গত চার বছরের মধ্যে এবার সর্বনিম্ন ফলাফল এসেছে।

চলতি বছর ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশে। গত বছরের তুলনায় এই হার শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৫৪৭ জন। বিষয়ভিত্তিক ফলাফলের দিকে তাকালে দেখা যায়, হিসাববিজ্ঞানে প্রায় ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন।

প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলের তথ্যানুসারে, বোর্ডের অধীন মোট ৩১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী পাস করতে পেরেছেন। অন্যদিকে, ১৯টি প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি।

জেলাভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, ময়মনসিংহের সাতটি প্রতিষ্ঠানের ৪৩ জন, নেত্রকোনার ছয়টি প্রতিষ্ঠানের ৩৩ জন, জামালপুরের চারটি প্রতিষ্ঠানের ১৮ জন এবং শেরপুরের দুটি প্রতিষ্ঠানের ৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। তবে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনোটিতেই একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেননি।

বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এ বছর মোট ৭৩ হাজার ৪২০ জন পরীক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৭০ হাজার ৬৭৩ জন এবং পাস করেছেন ৩৬ হাজার ৩৫৪ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ১৩৭ জন। উল্লেখ্য, গত বছর পাসের হার ছিল ৫১ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ২ হাজার ৬৮৪ জন।

গত চার বছরের ফলাফলের একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৩ সালে ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭০ দশমিক ৪৪ শতাংশ। ২০২৪ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৬৩ দশমিক ২২ শতাংশে। এরপর ২০২৫ সালে পাসের হার বড় ব্যবধানে কমে ৫১ দশমিক ৫৪ শতাংশে নেমে আসে এবং এবার তা আরও হ্রাস পেয়েছে।

এবারের ফলাফলেও পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে ছাত্রীদের তুলনায় ছাত্ররা পিছিয়ে আছেন। মোট ৩৭ হাজার ৬৩৬ জন ছাত্রীর মধ্যে পাস করেছেন ২০ হাজার ৭০৭ জন, যাদের পাসের হার ৫৫ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ১১৯ জন ছাত্রী। অন্যদিকে, ৩৩ হাজার ৩৭ জন ছাত্রের মধ্যে পাস করেছেন ১৫ হাজার ৬৪৭ জন। ছাত্রদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ১৮ জন।

জেলাভিত্তিক ফলাফলের দিক থেকে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে ময়মনসিংহ জেলা। আজ শনিবার বেলা ১১টায় ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের সম্মেলনকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এই অনুষ্ঠানে বোর্ডের সচিব অধ্যাপক এনামুল হক এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. শাহাদাত উল্লাহ ফলাফল ঘোষণা ও প্রশ্নোত্তর পর্বে উপস্থিত ছিলেন।

বিষয়ভিত্তিক ফলাফলে দেখা গেছে, ইংরেজিতে পাসের হার ৫৯ দশমিক ১১ শতাংশ এবং অকৃতকার্য হয়েছেন ৪০ দশমিক ৮৯ শতাংশ পরীক্ষার্থী। অন্যদিকে হিসাববিজ্ঞানে পাসের হার ৫৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং অকৃতকার্য হয়েছেন ৪২ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ পরীক্ষার্থী।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলেন, ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন। এ বিষয়ে পাসের হার বাড়লে সামগ্রিক ফলাফল আরও ভালো হতে পারত। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে হিসাববিজ্ঞানে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। এসব বিষয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আরও সচেতন হওয়া এবং নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন।

শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে বোর্ডটির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের ভাষ্য, যেসব প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেননি, সেগুলোর প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হবে। পরে আইনগত দিক বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোই সীমান্তবর্তী ও প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত, যেখানে নাগরিক সুযোগ–সুবিধা তুলনামূলক কম।

বোর্ডের সচিব এনামুল হক বলেন, “বিগত সরকারের সময় পড়াশোনা না করেও ভালো ফল করার যে সংস্কৃতি চালু হয়েছিল, তা থেকে বেরিয়ে এসে সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।”