বিশ্বকাপ জয় এবং বার্সেলোনার হয়ে লা লিগার শিরোপা জেতার মতো বড় সাফল্য অর্জন করেছেন লামিনে ইয়ামাল। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও তিনি ছিলেন অনন্য। তবে এত কিছুর পরেও ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর তার হাতের বাইরে থেকে গেল। হ্যারি কেইন এবং কিলিয়ান এমবাপ্পের পেছনে থেকে তৃতীয় স্থানে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে বার্সেলোনার এই তরুণ তারকার। তবে এই ব্যর্থতায় ভেঙে পড়তে রাজি নন ১৯ বছর বয়সী স্প্যানিশ ফুটবলার। বরং নিজের সাফল্যের সময় সামনেই আসবে বলে বিশ্বাস করেন তিনি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে আয়োজিত জমকালো ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো এই পুরস্কারটি জিতে নেন বায়ার্ন মিউনিখের ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন। দ্বিতীয় স্থানটি দখল করেন রিয়াল মাদ্রিদের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। আর গতবারের রানার-আপ ইয়ামাল এবার নেমে গেছেন তৃতীয় স্থানে।

মূল পুরস্কারটি না পাওয়া নিয়ে অনুষ্ঠানের মঞ্চে আলাদা করে কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি ইয়ামাল। তবে পরদিন মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে অনুষ্ঠানের কিছু ছবি শেয়ার করে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেন বার্সেলোনার এই উইঙ্গার।

সেখানে ইয়ামাল লেখেন, ‘সেই দিনও আসবে। ভালো কিছু পেতে সময় লাগে। আমি যে পথে এগিয়ে যাচ্ছি, তার ওপর আমার বিশ্বাস আছে। কোনো তাড়াহুড়ো নেই। আশা ও আত্মবিশ্বাস নিয়েই এগোচ্ছি। আমি জানি, একদিন আমার সময় আসবে।’

পুরস্কারজয়ীদের অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি নিজের পূর্ণ মনোযোগ আবারও ক্লাব ফুটবলে ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। ইয়ামাল লেখেন, ‘বিজয়ীদের অভিনন্দন। এখন আমার মনোযোগ আবারও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির দিকে, বার্সেলোনাকে আবার জয়ের পথে ফেরানো।’

এবারের ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে ইয়ামাল ছিলেন অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার। স্পেনের হয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ জয় এবং বার্সেলোনার লা লিগা শিরোপা ধরে রাখার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত মৌসুমে গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের গোল করতে সহায়তা করা, সুযোগ তৈরি এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ তছনছ করার ক্ষেত্রে তিনি অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছেন।

পুরস্কার ঘোষণার আগে নিজের সম্ভাবনা নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন ইয়ামাল। সেপ্টেম্বরে স্পেনের সাবেক ফুটবলার হোর্হে ভালদানোর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, তার বিবেচনায় বর্তমানে বিশ্বের সেরা দুই ফুটবলার হলেন তিনি এবং এমবাপ্পে। এছাড়া দলীয় সাফল্যের দিক থেকে বিচার করলে এবারের ব্যালন ডি’অর তার প্রাপ্য বলেও দাবি করেছিলেন বার্সেলোনার এই তারকা।

ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপকে দেওয়া আরেকটি সাক্ষাৎকারে ব্যালন ডি’অরের মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে নিজের ভাবনা প্রকাশ করেছিলেন ইয়ামাল। তার মতে, কেবল গোলসংখ্যা কিংবা শিরোপার হিসাব দিয়ে এই পুরস্কারের বিচার করা উচিত নয়। বরং এমন একজন ফুটবলারকে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত, যার খেলা দেখার জন্য দর্শকেরা মাঠে ভিড় করতে চান। উদাহরণ হিসেবে তিনি লিওনেল মেসি ও রোনালদিনহোর কথা উল্লেখ করেছিলেন।

তবে শেষ পর্যন্ত ভোটাভুটিতে এগিয়ে যান হ্যারি কেইন। গোল করার অসাধারণ ধারাবাহিকতা এবং পুরো মৌসুম জুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ইংলিশ স্ট্রাইকারের হাতে ওঠে ক্যারিয়ারের প্রথম ব্যালন ডি’অর।

মূল পুরস্কারটি হাতছাড়া হলেও লন্ডনের অনুষ্ঠান থেকে খালি হাতে ফেরেননি ইয়ামাল। টানা তৃতীয়বারের মতো অনূর্ধ্ব-২১ বছর বয়সী সেরা ফুটবলারের কোপা ট্রফি জিতেছেন তিনি। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের পর এবারও এই পুরস্কারটি নিজের করে নিয়ে প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা তিনবার কোপা ট্রফি জয়ের এক অনন্য ইতিহাস গড়েছেন এই স্প্যানিশ তারকা।

তবে পুরস্কার গ্রহণের মুহূর্তে নিজের চেয়ে সতীর্থ পাউ কুবারসিকেই বেশি যোগ্য বলে মনে করেন ইয়ামাল। মঞ্চে তিনি জানান, কুবারসি এই পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে দুর্দান্ত খেলা সতীর্থকে ট্রফিটি জিততে দেখতে চেয়েছিলেন তিনি। একই সঙ্গে বার্সেলোনা ও স্পেন জাতীয় দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এই তরুণ ফুটবলার।

গতবার দ্বিতীয় এবং এবার তৃতীয় হলেও ব্যালন ডি’অর জয়ের স্বপ্ন থেকে পিছিয়ে আসছেন না ইয়ামাল। তবে আপাতত তার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বার্সেলোনাকে পুনরায় জয়ের পথে ফিরিয়ে আনা।

সাম্প্রতিক সময়ে হান্সি ফ্লিকের নেতৃত্বাধীন বার্সেলোনা টানা দুই ম্যাচে পরাজিত হয়েছে। গত ২০ অক্টোবর চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির কাছে ৪-২ গোলে হারের পর ২৫ অক্টোবর লা লিগার এল ক্লাসিকোতে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে ২-১ গোলে হেরেছে বার্সেলোনা।

তাই ব্যক্তিগত পুরস্কারের আক্ষেপ পেছনে ফেলে এখন দলের সামগ্রিক সাফল্যের দিকেই মনোযোগ দিতে চান ইয়ামাল। ব্যালন ডি’অর জয়ের জন্য আরও দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হলেও নিজের সামর্থ্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আত্মবিশ্বাস ধরে রেখেছেন তিনি।