বিশ্বকাপ জয় এবং বার্সেলোনার হয়ে লা লিগার শিরোপা জেতার কৃতিত্ব থাকলেও ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ও দলীয় সাফল্যের হিসেবে এবারের ব্যালন ডি’অরের অন্যতম দাবিদার লামিনে ইয়ামাল। তবে পুরস্কার ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে বার্সেলোনার অন্দরমহল থেকে এক চমকপ্রদ খবর সামনে এসেছে। ক্লাবটির ভেতরেই এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে, শেষ পর্যন্ত ব্যালন ডি’অর জিততে পারবেন না ইয়ামাল। বরং ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই ব্যক্তিগত পুরস্কারটি বায়ার্ন মিউনিখের ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনের হাতে উঠতে পারে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম কাদেনা সেরের সাংবাদিক সিকে রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, বার্সেলোনার ভেতরেই এই ধারণাটি প্রবল যে, এবারের ব্যালন ডি’অর জিতবেন কেইন। তবে এটি ক্লাবের কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয় এবং পুরস্কারের চূড়ান্ত ফলাফলও এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সংবাদমাধ্যম গোলও কাদেনা সেরের বরাতে এই একই খবর প্রকাশ করেছে।

সোমবার লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ব্যালন ডি’অরের ৭০তম আসর। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোর ২টায় শুরু হবে এই জমকালো অনুষ্ঠান। এবারই প্রথম ব্রিটিশ রাজধানী লন্ডনে এই পুরস্কার বিতরণী আয়োজন করা হচ্ছে। ১৯৫৬ সালে প্রথম ব্যালন ডি’অরজয়ী ইংল্যান্ডের স্ট্যানলি ম্যাথুসের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের লক্ষ্যেই লন্ডনকে বেছে নেওয়া হয়েছে। পুরুষদের ব্যালন ডি’অর জয়ের প্রধান দাবিদার হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন ইয়ামাল, কেইন এবং কিলিয়ান এমবাপ্পে।

বার্সেলোনার এই সংশয়ের পেছনে আরও একটি কারণ উঠে এসেছে কাদেনা সেরের প্রতিবেদনে। ওই সংবাদমাধ্যমটির দাবি, এবারের সেরা তরুণ ফুটবলারের কোপা ট্রফি জিততে যাচ্ছেন ইয়ামাল। এই পুরস্কারের অন্যতম দাবিদার বার্সেলোনার আরেক তরুণ ফুটবলার পাউ কুবারসি লন্ডনের অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন না। যদিও কোপা ট্রফির বিজয়ী এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম কাদেনা কোপ জানিয়েছে, এল ক্লাসিকোর পর হালকা জ্বরে ভুগছিলেন কুবারসি। সেই কারণে বিশ্রামের জন্য তাকে বার্সেলোনাতেই রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে তার অনুপস্থিতির ফলে কোপা ট্রফি জয়ের ক্ষেত্রে ইয়ামালের সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে বলে মনে করছে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলো।

এর আগে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে টানা দুবার কোপা ট্রফি জিতেছেন ইয়ামাল। এবার জিতলে প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা তিনবার এই পুরস্কার জেতার অনন্য ইতিহাস গড়বেন তিনি। তবে একই বছরে কোপা ট্রফি এবং মূল ব্যালন ডি’অর জয়ের নজির ফুটবল ইতিহাসে এখনো নেই। যদিও একই সঙ্গে দুটি পুরস্কার জয়ের ক্ষেত্রে কোনো আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা নেই, ফলে কোপা ট্রফি পেলেও ইয়ামালের ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাবে না।

এবারের লড়াইয়ে ইয়ামালের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা যাচ্ছে কেইনকে। ২০২৫-২৬ মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে মোট ৭৩টি গোল করেছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। এর মধ্যে বায়ার্নের হয়ে ৬১টি এবং ইংল্যান্ডের হয়ে ১২টি গোল। জার্মান ক্লাবটির হয়ে তিনি বুন্দেসলিগা, জার্মান কাপ ও জার্মান সুপার কাপ জিতেছেন। অন্যদিকে ইংল্যান্ড দলকে বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জনে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। ব্যালন ডি’অর জিতলে ২০০১ সালে মাইকেল ওয়েনের পর প্রথম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে এই গৌরব অর্জন করবেন কেইন।

তবে ইয়ামালের অর্জনও যথেষ্ট নজরকাড়া। মাত্র ১৯ বছর বয়সে স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ এবং বার্সেলোনার হয়ে লা লিগা জিতেছেন তিনি। গত জুলাইয়ে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন, আর সেই দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন ইয়ামাল।

এবার ব্যালন ডি’অর জিতলে সবচেয়ে কম বয়সে এই পুরস্কার জয়ের রেকর্ড গড়বেন স্প্যানিশ এই উইঙ্গার। বর্তমানে এই রেকর্ডটি ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদোর দখলে, যিনি ১৯৯৭ সালে ২১ বছর বয়সে ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন।

এদিকে পুরস্কার বিতরণীর ঠিক আগের দিন এল ক্লাসিকোতে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে ২-১ গোলে হেরেছে বার্সেলোনা। এর আগে চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির কাছে ৪-২ গোলে হেরেছিল হান্সি ফ্লিকের দল। টানা দুই হারের ধাক্কার মাঝে ইয়ামালের ব্যালন ডি’অর জয় ক্লাবটির জন্য বড় স্বস্তি হয়ে আসতে পারত।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানা দুই পরাজয়ের ফলে বার্সেলোনার খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইয়ামালের হাতে ব্যালন ডি’অর উঠলে তা ক্লাবের জন্য বড় মানসিক প্রাপ্তি হবে। সমর্থকদের একটি বড় অংশ এখনো তরুণ এই উইঙ্গারের জয় নিয়ে আশাবাদী।

অন্যদিকে কাদেনা কোপের তথ্য অনুযায়ী, বার্সেলোনার ভেতরে ইয়ামালের মূল ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। ফলে কেইনকে এগিয়ে রাখার ধারণা থাকলেও ক্লাবটির সবাই যে একই অবস্থানে আছেন, তা নয়।

শেষ পর্যন্ত কেইন, ইয়ামাল নাকি এমবাপ্পে—কার হাতে উঠবে এবারের ব্যালন ডি’অর, তা জানতে এখন আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা।