সাধারণত কোনো পুরস্কার জয়ের প্রকৃত আনন্দ অনুভব করতে হলে সেটি হাতে পাওয়া পর্যন্ত ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হয়। তবে ফুটবল বিশ্বে মাঝে মাঝে এর বিপরীত চিত্রও দেখা যায়। পুরস্কারটি কার হাতে উঠবে তা চূড়ান্তভাবে ঘোষণার আগেই শুরু হয়ে যায় উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি। অতিথিদের তালিকা চূড়ান্ত করা, ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ ভাড়া করা কিংবা বিশেষ পোশাক বাছাইয়ের মতো আয়োজন চলে পুরোদমে। কিন্তু মঞ্চে যখন চূড়ান্ত নাম ঘোষণা করা হয়, তখন মুহূর্তের মধ্যেই বদলে যেতে পারে সব পরিকল্পনা।

২০২৪ সালে রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ঠিক এমনই এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন। আর এবার ব্যালন ডি’অর নিয়ে একই ধরনের গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন বার্সেলোনার তরুণ তুর্কি লামিনে ইয়ামাল। ফ্রান্স ফুটবল সাময়িকীর পক্ষ থেকে দেওয়া ফুটবলের এই সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কারটি শেষ পর্যন্ত কার হাতে উঠবে, তা জানতে হলে সোমবার রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের দাবি, ইয়ামালের সম্ভাব্য জয় উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে।

স্পেনের রেডিও স্টেশন কাদেনা কোপ তাদের সাংবাদিক ভিক্টর নাভারোর বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি জানিয়েছে। বার্সেলোনা ক্লাব সম্পর্কে গভীর জানাশোনা থাকা নাভারোর দাবি, সোমবার লন্ডনে অনুষ্ঠিতব্য ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে ইয়ামাল ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে করে যাবেন। তাঁর সঙ্গে থাকবেন তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা। উল্লেখ্য, বার্সেলোনার আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিদল আলাদা একটি ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে করে সেখানে পৌঁছাবে।

কেবল যাতায়াতের ব্যবস্থাপনই নয়, ইয়ামাল যদি পুরস্কারটি জয় করেন তবে কীভাবে উদ্‌যাপন করবেন, সেই পরিকল্পনাও নাকি আগেভাগেই তৈরি করে রাখা হয়েছে। ফুটবলের এই উদীয়মান মহাতারকার এমন প্রস্তুতির খবর সামনে আসতেই ফুটবল প্রেমীদের মনে পড়ে যাচ্ছে ভিনিসিয়ুসের কথা। কারণ, গত বছর এই ব্রাজিলিয়ান তারকার ব্যালন ডি’অর জয়ের আত্মবিশ্বাস ছিল প্রায় একই রকম।

২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানের আগে ভিনিসিয়ুসকে ঘিরে প্রত্যাশার পারদ ছিল তুঙ্গে। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডকে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবেই গণ্য করা হচ্ছিল। তাঁর প্রস্তুতিও ছিল সেই প্রবল বিশ্বাসের সাথে সংগতিপূর্ণ। অনুষ্ঠানের আগে ২০ জন আমন্ত্রিত অতিথিকে নিয়ে উদ্‌যাপনের পরিকল্পনা করেছিলেন ভিনিসিয়ুস। এমনকি তাঁর সতীর্থদের প্রত্যেককে রোলেক্স ঘড়ি দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য তিনি ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ ভাড়া করেছিলেন, বিশেষ নকশার পোশাক তৈরি করেছিলেন এবং হোটেলের কক্ষও বুক করা ছিল। তাঁর পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান নাইকি পর্যন্ত বিশেষ প্রচারণার প্রস্তুতি নিয়েছিল এবং ভিনিসিয়ুসের জন্য বিশেষ ফুটবল বুট তৈরি করা হয়েছিল।

তবে ফুটবল সব সময় পরিকল্পনা অনুযায়ী চলে না, বিশেষ করে ব্যক্তিগত পুরস্কারের ক্ষেত্রে। সেদিন ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন স্পেনের রদ্রি। পুরস্কার প্রদানের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে নাটকীয়ভাবে পরিস্থিতি বদলে যায়। ভিনিসিয়ুস পুরস্কারটি পাচ্ছেন না—এটি নিশ্চিত হয়ে অনুষ্ঠানটি বর্জন করে রিয়াল মাদ্রিদ। সেই সিদ্ধান্তটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল।

সেই ঘটনার পর এখন দুই বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। হয়তো সোমবার রাতে সেই বিখ্যাত সোনালি বলটি ইয়ামালের হাতেই উঠবে। আর যদি তা না হয়, তবে ভিনিসিয়ুসের সেই পুরনো গল্পটি তাঁকে মনে করিয়ে দেবে যে, ফুটবলে বড় স্বপ্ন দেখার পাশাপাশি চূড়ান্ত ঘোষণা পর্যন্ত ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করা কতটা জরুরি।