প্রতিপক্ষের মাঠে লড়াই শুরু করে শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও শেষ পর্যন্ত দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে বার্সেলোনা। তুরস্কের ক্লাব গালাতাসারাইয়ের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে ৪-১ গোলের বড় জয় পেয়েছে হানসি ফ্লিকের দল। ম্যাচে লামিনে ইয়ামালের অসাধারণ পারফরম্যান্স কাতালানদের এই জয় নিশ্চিত করতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে ইস্তাম্বুলের র‍্যামস পার্কে অনুষ্ঠিত এই লড়াইয়ে বার্সেলোনার হয়ে গোল করেছেন হোয়াও কানসেলো, ফেরমিন লোপেজ, অ্যান্থনি গর্ডন এবং করিম আদেয়েমি। অন্যদিকে, স্বাগতিক গালাতাসারাইয়ের একমাত্র গোলটি করেন আলেক্সেই বাতরাকভ।

খেলার শুরু থেকেই বল পজিশন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে বার্সেলোনা। পেদ্রি, দানি ওলমো এবং ইয়ামালের প্রচেষ্টায় বেশ কিছু গোল করার সুযোগ তৈরি হলেও প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক উগুরজান চাকির দৃঢ় দেয়াল হয়ে দাঁড়ান। প্রথম আধঘণ্টায় একাধিকবার নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে দলকে বিপদ থেকে রক্ষা করেন চাকির।

তবে ২৮ মিনিটে একটি পাল্টা আক্রমণে চমকে দেয় গালাতাসারাই। বাঁ প্রান্ত দিয়ে দ্রুত গতিতে আক্রমণ করে আসা রাফায়েল লেয়াও বলটি পাস করেন বাতরাকভকে। তার নেওয়া শটটি জেরার্দ মার্তিনের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই গোল হজম করতে হয় বার্সেলোনা গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়া।

এর ছয় মিনিট পর আবারও গোল করার সুযোগ পায় স্বাগতিকরা। বাতরাকভের নেওয়া কর্নারে ভিক্টর ওসিমেনের হেডে শেষ স্পর্শ করেন বারিশ আলপের ইলমাজ এবং বল জালে জড়ায়। তবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর প্রযুক্তির সহায়তায় অফসাইডের কারণে রেফারি গোলটি বাতিল করেন।

গোল বাতিলের ধাক্কা সামলে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই সমতায় ফেরে বার্সেলোনা। ৪৩ মিনিটে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ থেকে বল কেড়ে নেন ওলমো। তার কাছ থেকে বল পেয়ে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে দলকে ১-১ সমতায় ফেরান কানসেলো।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বার্সেলোনা। বিরতির পর থেকেই গালাতাসারাইয়ের রক্ষণকাঠামোয় একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকেন ইয়ামাল ও তার সতীর্থরা। ৪৬ মিনিটেই ইয়ামালের বাড়ানো বলে গোলের সহজ সুযোগ নষ্ট করেন গর্ডন।

অবশেষে ৫০ মিনিটে ইয়ামালের দুর্দান্ত একটি ক্রস থেকে ফেরমিন লোপেজ গোল করেন। পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে হেডে বল জালে পাঠিয়ে স্প্যানিশ মিডফিল্ডার বার্সেলোনাকে প্রথমবারের মতো এগিয়ে নেন।

মাত্র তিন মিনিট পর ব্যবধান আরও বাড়ান অ্যান্থনি গর্ডন। এই গোলের কারিগরও ছিলেন ইয়ামাল। ডান প্রান্তে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে নাচিয়ে বল পেছনে বাড়িয়ে দেন তিনি, যেখান থেকে নিচু শটে গোল করেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড। মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল করে ম্যাচের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় বার্সেলোনা।

ম্যাচের গতি ধরে রাখতে ৫৯ মিনিটে জোড়া পরিবর্তন আনেন কোচ হানসি ফ্লিক। ওলমো ও গর্ডনকে তুলে মাঠে নামান করিম আদেয়েমি এবং গ্যাব্রিয়েল জেসুসকে।

৬৬ মিনিটে আসে চতুর্থ গোল। এবারও আক্রমণের সূচনা করেন ইয়ামাল। তার বাড়ানো বল জেসুসের পা হয়ে পৌঁছায় বদলি হিসেবে নামা আদেয়েমির কাছে। বাঁ পায়ের প্রথম স্পর্শের শটেই গালাতাসারাইয়ের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন এই জার্মান ফরোয়ার্ড।

এরপরও আক্রমণ অব্যাহত রাখে বার্সেলোনা। ইয়ামাল নিজে গোলদাতার তালিকায় নাম লেখাতে একাধিকবার চেষ্টা করলেও সফল হননি। তবে সতীর্থদের দিয়ে দুটি গোল করানোর পাশাপাশি তার আক্রমণাত্মক খেলাটিই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। অন্যদিকে, বার্সেলোনার গতিময় আক্রমণের সামনে আর কোনো প্রতিরোধ গড়তে পারেনি গালাতাসারাই। শেষ পর্যন্ত নিজেদের মাঠেই বড় পরাজয় মেনে নিতে হয় তুরস্কের ক্লাবটিকে।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এবারের আসরে প্রথম ম্যাচে ফেইনুর্ডকে ৫-১ গোলে হারিয়েছিল বার্সেলোনা। গালাতাসারাইয়ের বিপক্ষে এই জয়ের ফলে দুই ম্যাচে পূর্ণ ছয় পয়েন্ট সংগ্রহ করল ফ্লিকের দল। বিপরীতে, প্রথম ম্যাচে স্পোর্টিং লিসবনের কাছে ৩-১ গোলে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও পয়েন্টশূন্য থাকতে হলো গালাতাসারাইকে।