ম্যাচের শুরুতে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে স্বাগতিক গালাতাসারাইকে ৪-১ গোলে পরাজিত করেছে বার্সেলোনা। চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে ইস্তাম্বুলের রামস পার্কে এই জয় তুলে নিল হান্সি ফ্লিকের দল। লামিনে ইয়ামালের অসাধারণ আক্রমণাত্মক খেলার ওপর ভর করে দলের হয়ে গোল করেছেন জোয়াও কানসেলো, ফেরমিন লোপেজ, অ্যান্থনি গর্ডন এবং করিম আদেয়েমি।
ম্যাচের শুরুটা বার্সেলোনার জন্য খুব একটা সুখকর ছিল না। ১-০ নয়, বরং ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে রীতিমতো স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল স্প্যানিশ জায়ান্টরা। তবে দ্বিতীয় গোলটি ভিএআরের হস্তক্ষেপে বাতিল হওয়ায় স্বস্তি পায় তারা। যদিও সেই মুহূর্ত পর্যন্ত ইস্তাম্বুলের রামস পার্ক ছিল উত্তেজনায় টগবগ করা, স্বাগতিক সমর্থকদের চিৎকারে গ্যালারি ছিল মুখরিত।
তবে শেষ পর্যন্ত স্কোরলাইন বলছে ভিন্ন কথা। শুরুতে নিজেদের জালে দুবার বল জড়াতে দেখলেও পরে এক এক করে চার গোল করে গালাতাসারাইকে বিধ্বস্ত করেছে বার্সেলোনা। এই জয়ের ফলে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১০ ম্যাচে জয়ের ধারা বজায় রাখল হান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা।
খেলার শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ ছিল বার্সেলোনার হাতে। প্রথম ২৫ মিনিটের মধ্যে অ্যান্থনি গর্ডন ও দানি ওলমোর মাধ্যমে দুটি দারুণ সুযোগ তৈরি করেছিল তারা। কিন্তু খেলার স্রোতের বিপরীতে প্রথম গোলের দেখা পায় স্বাগতিকরা। ২৮ মিনিটে বাঁ দিক থেকে রাফায়েল লিয়াওয়ের দেওয়া কাটব্যাক থেকে বক্সের বাইরে বল পান আলেক্সেই বাতরাকভ। তাঁর নেওয়া শটটি জোয়াও কানসেলোর গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে ঢুকে যায়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, সেটিই ছিল ম্যাচের প্রথম লক্ষ্যে শট যা গালাতাসারাই নিয়েছিল, অথচ ততক্ষণে ৬টি শট নিয়ে হাত-শূন্য ছিল বার্সেলোনা।
৩৪তম মিনিটে আরও বড় ধাক্কা খায় স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নরা। বারিস আলপার ইলমাজের গোলে ব্যবধান ২-০ করে ফেলে গালাতাসারাই। ইস্তাম্বুলের গ্যালারিতে তখন উচ্ছ্বাসের ঢেউ। তবে দীর্ঘ পর্যালোচনার পর ভিএআর জানায়, অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করা হয়েছে। এই স্বস্তি পাওয়ার পর বিরতির ঠিক আগে সমতায় ফেরে বার্সেলোনা। ইয়ামালের আক্রমণ প্রতিহত করলেও বল বিপদমুক্ত করতে ব্যর্থ হয় গালাতাসারাই। ওলমোর ট্যাকল থেকে বল পেয়ে ৪৩ মিনিটে ডান পায়ের নিখুঁত শটে লক্ষ্যভেদ করেন জোয়াও কানসেলো।
দ্বিতীয়ার্ধে বার্সেলোনা মাঠে নামে এক নতুন রূপে। বিরতির পর প্রথম বিশ মিনিটের মধ্যেই তারা আরও তিনটি গোল করে দেয়। ৫০ মিনিটে কর্নার থেকে ফিরে আসা বল বক্সে ক্রস করেন ইয়ামাল, যা কাছ থেকে হেডে গোলে converts করেন ফেরমিন লোপেজ।
এর তিন মিনিট পরেই ইয়ামালের আরেকটি সরাসরি অবদানে ব্যবধান আরও বাড়ে। পেদ্রির পাস পেয়ে গোললাইন থেকে বল মাঠে রেখে সতীর্থ অ্যান্থনি গর্ডনকে পাস দেন ইয়ামাল। গর্ডনের শটে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-১।
এরপর ৬৫ মিনিটে চতুর্থ গোলটি করেন করিম আদেয়েমি। গ্যাব্রিয়েল জেসুসের গায়ে লেগে বল তাঁর সামনে এলে গতি না কমিয়েই নিচু শটে দূরের পোস্ট দিয়ে জালে পাঠান এই জার্মান ফরোয়ার্ড।
ম্যাচের শেষ দিকে ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল বার্সেলোনা। ইয়ামালের ক্রস থেকে আদেয়েমির ভলি গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন গালাতাসারাইয়ের রোলান্ড সালাই। এরপর ইয়ামালের পাসে গ্যাব্রিয়েল জেসুসের শটটি ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক উগুরজান চাকির। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হয়ে ৪-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা। উল্লেখ্য, লিগ পর্বের প্রথম ম্যাচে ফেইনুর্ডকে ৫-১ গোলে হারিয়েছিল এই দলটি।