টানা দুটি ম্যাচে পরাজয়ের ফলে কিছুটা চাপে পড়েছিল বার্সেলোনা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিএসজির কাছে হার এবং এল ক্লাসিকোতে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে পরাজিত হওয়ার পর ঘুরে দাঁড়ানোর এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ছিল হান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা। তবে সেই চ্যালেঞ্জ তারা অত্যন্ত সাফল্যের সাথে মোকাবিলা করেছে। লামিনে ইয়ামাল ও রাফিনিয়ার জোড়া গোলের সৌজন্যে আলাভেসকে ৬-১ ব্যবধানে বিধ্বস্ত করেছে কাতালান ক্লাবটি। এছাড়া দলের হয়ে একটি করে গোল করেছেন অ্যান্থনি গর্ডন ও ফেরমিন লোপেজ। এই বিশাল জয়ের ফলে লা লিগার পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যুতে লা লিগার একাদশ রাউন্ডের এই ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল প্রদর্শিত করেছে বার্সেলোনা। প্রথমার্ধেই চার গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের দখলে নেয় স্বাগতিক দল। বিরতির পর আরও দুটি গোল যোগ করে বড় জয় নিশ্চিত করে ফ্লিকের দল।
চোটের কারণে বেশ কয়েকজন ফুটবলার অনুপলব্ধ থাকায় রক্ষণভাগে কিছু পরিবর্তন আনতে বাধ্য হন বার্সেলোনা কোচ। এই ম্যাচে মূল দলের হয়ে অভিষেক ঘটে তরুণ ব্রায়ান ফারিনিয়াসের। এছাড়া সেন্টারব্যাক হিসেবে পাউ কুবারসির সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং, যিনি সাধারণত মাঝমাঠে খেলেন। তবে রক্ষণভাগের এই পরিবর্তনগুলো আক্রমণভাগের ধার কমাতে পারেনি।
ম্যাচের মাত্র অষ্টম মিনিটেই বার্সেলোনাকে লিড এনে দেন রাফিনিয়া। পেদ্রির একটি চমৎকার পাস ধরে বাঁ প্রান্ত দিয়ে উঠে আসেন ফেরমিন লোপেজ এবং তার বাড়ানো বলটি নিখুঁতভাবে জালে পাঠান ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
২৩তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফেরমিন লোপেজ। ইয়ামালের পাস পেয়ে বক্সের ভেতর একটি কঠিন কোণ থেকে জোরালো শটে গোল করেন এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার। এরপর আলাভেস কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করে এবং তাদের একটি শট ক্রসবারে গিয়ে ফিরে আসে। তবে অতিথিদের সেই প্রতিরোধ খুব বেশি সময় স্থায়ী হয়নি।
৪১তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন রাফিনিয়া। প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে তাকে সুযোগ তৈরি করে দেন ফেরমিন। সতীর্থের সেই পাস থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ব্যবধান ৩-০ করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।
প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে জোয়াও কানসেলোর পাস থেকে নিচু শটে গোল করেন ইয়ামাল। এর ফলে চার গোলের বিশাল ব্যবধান নিয়ে বিরতিতে যায় বার্সেলোনা।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা অব্যাহত রাখে স্বাগতিকরা। ৬৪তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নামা গ্যাব্রিয়েল জেসুসের পাস ধরে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের পেছনে ঢুকে পড়েন ইয়ামাল। এরপর এগিয়ে আসা গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। শুরুতে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করা হলেও ভিএআর পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত বদলে যায় এবং গোলটি দেওয়া হয়। ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোলের আনন্দে মেতে ওঠেন এই স্প্যানিশ তরুণ।
এরপর ইয়ামালকে মাঠ থেকে সরিয়ে অ্যান্থনি গর্ডনকে নামান কোচ ফ্লিক। ৮১তম মিনিটে রদ্রির একটি দারুণ থ্রু পাস ধরে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বার্সেলোনার ষষ্ঠ গোলটি করেন এই ইংলিশ ফরোয়ার্ড।
তবে পুরো ম্যাচ ক্লিন শিট রাখতে পারেনি বার্সেলোনা। ৮৪তম মিনিটে রদ্রির একটি ভুল কাজে লাগিয়ে আলাভেসের হয়ে সান্ত্বনাসূচক গোল করেন মারিয়ানো দিয়াজ।
পুরো ম্যাচে এক গোলের পাশাপাশি দুটি অ্যাসিস্ট করে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন ফেরমিন। অন্যদিকে জোড়া গোল করে চলতি লা লিগায় নিজের গোলসংখ্যা ১৫-তে নিয়ে গেছেন রাফিনিয়া। মাত্র ১১ ম্যাচে এই মাইলফলক স্পর্শ করে বার্সেলোনার ইতিহাসে সেসার রদ্রিগেস ও লিওনেল মেসির কীর্তিকে স্পর্শ করেছেন তিনি।
এই জয়ের ফলে ১১ ম্যাচে ১০ জয় নিয়ে বার্সেলোনার সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৩০ পয়েন্ট। ফলে দ্বিতীয় স্থানে থাকা আতলেটিকো মাদ্রিদের চেয়ে দুই পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছে ফ্লিকের দল। অন্যদিকে টানা সাত ম্যাচ জয়হীন থাকা আলাভেস ১২ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার দশম স্থানে অবস্থান করছে।