লা লিগার চলতি মৌসুমে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব আরও একবার প্রমাণ করল বার্সেলোনা। লেভান্তের মাঠে ৪-২ গোলের জয়ে টানা পঞ্চম জয় তুলে নিয়েছে তারা। এই জয়ে ৫ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে রইল বার্সা, দ্বিতীয় স্থানের রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে তাদের ব্যবধানও ৩ পয়েন্টে অটুট।

ম্যাচের শুরুতেই গোল পেয়ে যায় বার্সেলোনা। ৫ মিনিটে চমৎকার এক পাসিং মুভ থেকে গোল করেন জাভি এসপার্ত। বার্সেলোনার জার্সিতে এটি তাঁর প্রথম গোল, যা এসেছে ক্লাবের হয়ে ১২তম ম্যাচে।

১৫ মিনিট পরেই ব্যবধান দ্বিগুণ হয় বার্সার। পাউ কুবাসির লম্বা পাস থেকে ফেরমিন লোপেজ হয়ে বল যায় রাফিনিয়ার কাছে। বার্সা অধিনায়ক ঠান্ডা মাথায় বল বাড়িয়ে দেন লামিনে ইয়ামালকে, আর সহজ ট্যাপ-ইনে গোল করেন ইয়ামাল। চলতি মৌসুমে রাফিনিয়ার গোলে অবদান ৯টি। বার্সার হয়ে মৌসুমের প্রথম ৫ লিগ ম্যাচে রাফিনিয়ার চেয়ে বেশি গোলে অবদান ছিল শুধু লিওনেল মেসির। ২০১৭-১৮ মৌসুমে প্রথম ৫ ম্যাচে ১০টি গোলে অবদান রেখেছিলেন মেসি।

প্রথমার্ধে বল দখলে একচ্ছত্র প্রাধান্য ছিল বার্সার। লেভান্তে মাঝেমধ্যে আক্রমণে উঠলেও অফসাইডে ধরা পড়ে। হতাশা বাড়তে থাকলে শারীরিক খেলায় ঝুঁকে পড়ে স্বাগতিকরা। তবু বার্সার ছন্দে ভাটা পড়েনি। বিরতিতে যাওয়ার সময় বার্সা এগিয়ে ছিল ২-০ ব্যবধানে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পেনাল্টি আদায় করে নিজেই গোল করেন লামিনে ইয়ামাল। ৩-০ লিড নেওয়ার পর এক ঘণ্টা পার হতেই পেদ্রি ও ইয়ামালকে বদলি করে বিশ্রাম দেন হান্সি ফ্লিক। এরপরই হঠাৎ ভুল করে বসে বার্সা। নিজেদের বক্সে এসপার্তের বাজে পাস থেকে গোল করেন ইভান রোমেরো। লেভান্তে ফিরে পায় আশা। এরপর মার্ক বার্নালের ভুলে মাঝমাঠে বল হারিয়ে রজার ব্রুগের গোলে ব্যবধান হয় ৩-২। ম্যাচে ফিরে আসে উত্তেজনা।

শেষটা নাটকীয়। যোগ করা সময়ে বাঁ দিক দিয়ে একক দৌড়ে এগিয়ে গিয়ে দলকে ৪-২ ব্যবধানে নিয়ে যান বদলি করিম আদেয়েমি। দারুণ এক সমাপ্তি, ব্যবধান আবারও ২ গোলের। শেষ বাঁশি বাজতেই স্বস্তি ফিরেছে বার্সার শিবিরে। আধিপত্য থাকলেই ম্যাচ শেষ হয়ে যায় না, শেষ বাঁশি পর্যন্ত খেলতে হয়—এই জয়টা তাই বার্সার জন্য তিন পয়েন্টের চেয়েও বেশি কিছু, এক সতর্কবার্তা।