মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ক্লাব প্রতিযোগিতা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে একের পর এক বিস্ময়কর রেকর্ড গড়ছেন লামিনে ইয়ামাল। এবার তার সামনে সুযোগ রয়েছে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছানোর। ২০ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ডে বর্তমানে যৌথভাবে শীর্ষে অবস্থান করছেন এই দুই তারকা। দুজনের গোলসংখ্যাই সমান ১৩টি। এখন আর মাত্র একটি গোল করলেই ফরাসি মহাতারকা এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে এই রেকর্ডটি এককভাবে নিজের করে নিতে পারবেন বার্সেলোনার স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড ইয়ামাল।

আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগ পর্বের চতুর্থ ম্যাচে ইংলিশ ক্লাব অ্যাস্টন ভিলার মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা। নিজেদের মাঠ স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যুতে এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বুধবার (৪ নভেম্বর) রাত ২টায়। আর এই ম্যাচেই এমবাপ্পের রেকর্ড ভাঙার বড় সুযোগ পাচ্ছেন ইয়ামাল।

উয়েফার আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০ বছর বয়স হওয়ার আগে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ২৩ ম্যাচ খেলে ১৩ গোল করেছিলেন এমবাপ্পে। মোনাকো ও প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) হয়ে তিনি এই কীর্তি গড়েছিলেন। অন্যদিকে, বার্সেলোনার জার্সিতে ৩৬ ম্যাচ খেলে সমানসংখ্যক গোল করেছেন ইয়ামাল। ফলে গোলসংখ্যায় দুই তারকা সমান অবস্থানে থাকলেও ম্যাচের সংখ্যার হিসেবে এমবাপ্পে কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন।

এই বিশেষ তালিকায় তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছেন ম্যানচেস্টার সিটির নরওয়েজিয়ান পাওয়ারহাউস আর্লিং হলান্ড। ২০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে মাত্র আট ম্যাচে ১০ গোল করেছিলেন তিনি। এরপর সাত গোল নিয়ে রয়েছেন নেদারল্যান্ডসের সাবেক ফরোয়ার্ড প্যাট্রিক ক্লুইভার্ট। এছাড়া জুড বেলিংহাম, করিম বেনজেমা ও রাউল গঞ্জালেসের মতো বিশ্বখ্যাত তারকারা ওই বয়সসীমার আগে করেছিলেন ছয়টি করে গোল।

তবে বয়সভিত্তিক গোলের রেকর্ডে এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা ইয়ামালের আগেও হয়েছে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১৯ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড এখন তার দখলে। ১৯তম জন্মদিনের আগেই ১১ গোল করেছিলেন বার্সেলোনার এই তরুণ ফরোয়ার্ড, যেখানে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা ছিল ১০টি। এমনকি ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেও এই প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ পাঁচ গোলের রেকর্ডটি ইয়ামালেরই দখলে।

চলতি মৌসুমে সেই রেকর্ডের তালিকায় আরও একটি মাইলফলক যোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন এই স্প্যানিশ তারকা। গত ২০ অক্টোবর পিএসজির বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে গোল করে এমবাপ্পের ১৩ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেন ইয়ামাল। যদিও সেদিন তার দলকে ৪-২ ব্যবধানে হারতে হয়েছিল, তবে ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকে ম্যাচটি ছিল তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এবার সেই রেকর্ডটি পুরোপুরি নিজের করে নেওয়ার সুযোগ। ইয়ামালের হাতে সময়ও রয়েছে যথেষ্ট। আগামী বছরের ১৩ জুলাই ২০ বছরে পা রাখবেন তিনি। অর্থাৎ বয়সের এই নির্দিষ্ট সীমা পার হওয়ার আগে চলতি মৌসুমের বাকি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচগুলোতে গোলসংখ্যা আরও বাড়ানোর এবং রেকর্ডটি পাকাপোক্ত করার সুযোগ পাবেন বার্সেলোনার এই তরুণ তুর্কি।

রেকর্ডের সামনে দাঁড়ানোর পাশাপাশি দুর্দান্ত ছন্দেও কাটছে ইয়ামালের সময়। গত শনিবার লা লিগায় আলাভেসের বিপক্ষে ৬-১ গোলের বিশাল জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। সেই ম্যাচে জোড়া গোল করার পাশাপাশি আরও একটি গোলে সহায়তা করেন তিনি। পিএসজি ও রিয়াল মাদ্রিদের কাছে টানা দুই ম্যাচ হারের পর জয়ের ধারায় ফিরেছে কাতালান ক্লাবটি।

চলতি মৌসুমে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৪ ম্যাচে ১২ গোল ও ১১ অ্যাসিস্ট করেছেন ইয়ামাল। লা লিগার ১১ ম্যাচে করেছেন ১০ গোল, সঙ্গে সাত অ্যাসিস্ট। অন্যদিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের তিন ম্যাচে দুই গোলের পাশাপাশি চারটি গোলে সহায়তা করেছেন তিনি।

ইউরোপের এই প্রতিযোগিতায় শুধু গোল করাই নয়, সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর ক্ষেত্রেও নিজের অসাধারণ দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন ইয়ামাল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তার মোট অ্যাসিস্টের সংখ্যা এখন ১৩টি। আর চলতি মৌসুমে প্রথম তিন ম্যাচেই চার অ্যাসিস্ট করে এই তালিকায় সবার ওপরে অবস্থান করছেন তিনি।

অথচ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইয়ামালের শুরুটা এমন চমকপ্রদ ছিল না। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে মাত্র ১৬ বছর বয়সে বেলজিয়ান ক্লাব রয়্যাল অ্যান্টওয়ার্পের বিপক্ষে এই প্রতিযোগিতায় অভিষেক হয় তার। প্রথম মৌসুমে কোনো গোল পাননি তিনি। পরের বছরের সেপ্টেম্বরে মোনাকোর বিপক্ষে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গোলের দেখা পান। এরপর থেকেই ইউরোপের সবচেয়ে বড় ক্লাব প্রতিযোগিতায় নিয়মিতভাবে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছেন এই ফরোয়ার্ড।

তবে এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পথ খুব একটা সহজ হবে না। এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দুর্দান্ত শুরু করেছে উনাই এমেরির নেতৃত্বাধীন অ্যাস্টন ভিলা। প্রথম তিন ম্যাচের সবগুলোতেই জিতেছে এই ইংলিশ ক্লাবটি। ক্লাব ব্রুগা, ফেনারবাচে ও ভাইকিংকে হারিয়ে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে বার্সেলোনায় এসেছে তারা। লিগ পর্বের পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভিলা।

অন্যদিকে বার্সেলোনা তিন ম্যাচের দুটিতে জয়লাভ করেছে। ফেইনুর্দ ও গালাতাসারাইয়ের বিপক্ষে জয় পেলেও পিএসজির কাছে হেরে যায় হান্সি ফ্লিকের দল। ছয় পয়েন্ট নিয়ে অষ্টম স্থানে থাকা কাতালানরা এখন নিজেদের মাঠে জয় পেয়ে শীর্ষ আটে অবস্থান আরও মজবুত করতে চাইবে।