লা লিগায় জয়রথ ছুটছে বার্সেলোনার। রিয়াল বেতিসের মাঠে সাত গোলের এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে বড় জয় তুলে নিয়েছে কাতালান জায়ান্টরা। এই জয়ের মধ্য দিয়ে লিগের প্রথম নয়টি ম্যাচের সবকটিতেই জয়লাভ করে এক অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করল হান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা। ম্যাচে লামিনে ইয়ামালের দুর্দান্ত এক গোলের পাশাপাশি ছিল একটি গোল অ্যাসিস্ট। দুই দলের পাল্টাপাল্টি আক্রমণ, ভিএআর-এর মাধ্যমে গোল বাতিল এবং লাল কার্ডের উত্তেজনায় ঠাসা ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ৫-২ ব্যবধানে বেতিসকে উড়িয়ে দিয়েছে বার্সেলোনা।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সেভিয়ার লা কার্তুহা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে বার্সেলোনা। ম্যাচের দশম মিনিটেই সফরকারী দলের লিড এনে দেন ইয়ামাল। জুলস কুন্দের দেওয়া নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে বল জালে পাঠান এই স্প্যানিশ তরুণ তারকা।

তবে এই লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি বার্সেলোনা। ২৭ মিনিটে দুর্দান্ত এক হেডে গোল করে ম্যাচটিকে সমতায় ফেরান ভ্যালেন্তিন গোমেজ। এরপর হেক্টর বেয়েরিনের একটি প্রচেষ্টা রুখে দিয়ে বার্সেলোনাকে পিছিয়ে পড়ার হাত থেকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়া।

প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার কিছু আগে আবারও সামনে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। ৪১ মিনিটে ফেরমিন লোপেজের নেওয়া কর্নার থেকে হেডে গোল করেন রদ্রি। বার্সেলোনার জার্সিতে এটিই ছিল তার ক্যারিয়ারের প্রথম গোল।

এর কিছুক্ষণ পর দূরপাল্লার এক দুর্দান্ত শটে বল জালে পাঠিয়েছিলেন বেতিসের জিওভানি লো সেলসো। তবে আক্রমণের শুরুতে কুচো এর্নান্দেসের হাতে বল লাগায় ভিডিও রেফারির পর্যালোচনার পর গোলটি বাতিল করা হয়। ফলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বার্সেলোনা।

দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই ব্যবধান বাড়ান গ্যাব্রিয়েল জেসুস। প্রথমে অফসাইডের কারণে তার একটি গোল বাতিল হয়, তবে ৫১ মিনিটে ইয়ামালের পাস থেকে সহজেই গোল করেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। যদিও দুই মিনিট পরেই আবদে এজালজুলির গোলে ব্যবধান কমিয়ে আনে স্বাগতিক বেতিস।

ঠিক এই সময়েই ম্যাচে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। গোলের পর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে বিবাদের একপর্যায়ে ইয়ামালকে মাথা দিয়ে আঘাত করেন বেতিসের ফাকুন্দো বের্নাল। এই গুরুতর অপরাধের জন্য সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। তবে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে হলুদ কার্ড দেখেন ইয়ামালও।

একজন বেশি খেলোয়াড় নিয়ে খেলার সুযোগ দ্রুত কাজে লাগায় বার্সেলোনা। ৬২ মিনিটে ইয়ামালের নেওয়া ফ্রি-কিক প্রতিপক্ষের রক্ষণে বাধা পেয়ে ফিরে এলে হেডে বল বাড়িয়ে দেন পাউ কুবারসি। সেখান থেকে গোল করে ব্যবধান ৪-২ করেন এরিক গার্সিয়া।

এরপর ৮১ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে এক চমৎকার শটে দলের পঞ্চম গোলটি করেন বদলি হিসেবে নামা দানি ওলমো। এই গোলেও সহায়তা করেন কুবারসি।

ম্যাচের শেষ দিকে কিছুটা দুশ্চিন্তায় পড়তে হয় বার্সেলোনাকে। চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন এরিক গার্সিয়া। এরই মধ্যে পাঁচটি বদলি খেলোয়াড় নামানো হয়ে যাওয়ায় শেষ সময়টুকু ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় কাতালানদের। তবে তা জয়ের পথে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।

এই জয়ের মাধ্যমে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো লিগের প্রথম নয়টি ম্যাচের সবকটিতেই জয় পেল বার্সেলোনা। একই সঙ্গে তারা স্পর্শ করল লা লিগার সর্বকালের সেরা শুরুর রেকর্ড। এর আগে ১৯৬৮-৬৯ মৌসুমে প্রথম নয় ম্যাচে জয়লাভ করেছিল রিয়াল মাদ্রিদ।