সাতক্ষীরায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক যুবককে হাসপাতাল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার এবং ঘটনার পেছনে যারা উসকানি দিয়েছেন তাদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। একই সাথে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্য হুমকির পর শামীমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে। শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ব্লাস্ট এই দাবিগুলো উত্থাপন করে।

সংস্থাটির দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত ১২ অক্টোবর শামীম এবং তাঁর স্ত্রীর মধ্যকার একটি ব্যক্তিগত কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই অডিওতে ধর্ম অবমাননাকর কথা রয়েছে বলে অভিযোগ তুলে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করা হয়। এর পরদিন ১৩ অক্টোবর বিকেলে ফজলুল হক আমিনী নামের এক ব্যক্তি তাঁর ফেসবুক প্রোফাইল থেকে লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে শামীমের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। ওই লাইভে তিনি শামীমের বাড়ির ঠিকানা প্রকাশ করেন এবং তাঁর জন্য উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানান। পরবর্তীতে আরও একটি লাইভ ভিডিওর মাধ্যমে তিনি শামীমের অবস্থানস্থলে সাধারণ মানুষকে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত জানানো হয় যে, ওই লাইভ সম্প্রচারের পর সেখানে কয়েক শ মানুষ একত্রিত হন। একপর্যায়ে একদল আক্রমণকারী শামীমকে স্থানীয় এক পল্লিচিকিৎসকের চেম্বার থেকে জোরপূর্বক বের করে এনে দফায় দফায় মারধর করেন। পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। তবে সেই রাতেই শতাধিক ব্যক্তি হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে চিকিৎসাধীন শামীমের ওপর পুনরায় হামলা চালায়। একপর্যায়ে তাঁকে টেনেহিঁচড়ে হাসপাতালের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে আবারও মারাত্মক আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

ব্লাস্টের মতে, এই ঘটনার দ্রুত, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সরাসরি হামলায় জড়িত এবং উসকানিদাতাদের আইনের আওতায় আনা এখন জরুরি। পাশাপাশি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্য হুমকির পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল এবং চিকিৎসাধীন ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের কোনো অবহেলা ছিল কি না, সেটি খতিয়ে দেখে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে বলে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে।

নিহত শামীমের পরিবারের নিরাপত্তা, আইনি সহায়তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে ব্লাস্ট বলেছে, “কোনো অভিযোগকে কেন্দ্র করে সহিংসতা চালানো বা বিচারবহির্ভূত শাস্তি দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনা আইনের শাসন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।”