সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগে গণপিটুনিতে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এবার থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। উক্ত মামলায় নির্দিষ্ট করে ৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি হিসেবে পারুলিয়ার ফজলুল হক আমিনিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে নিহতের ভাই আব্দুল জলিল দেবহাটা থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন।
ঘটনা প্রসঙ্গে দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন মুক্তকণ্ঠকে জানান, “আসামিদের গ্রেপ্তারে তথ্যপ্রযুক্তিসহ সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।”
অন্যদিকে, শামীমের মৃত্যুর ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে ওই রাজনৈতিক দলটি। তারা এই অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে দেবহাটা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এইচএম এমদাদুল হক দাবি করেন, “এ ঘটনায় জামায়াত বা সংগঠনের কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা নেই।” তিনি আরও দাবি করেন যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যেই এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ১৩ অক্টোবর দেবহাটায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৩৮) গণপিটুনির শিকার হন এবং পরবর্তীতে তার মৃত্যু হয়। নিহত শামীম উপজেলার সুবর্ণাবাদ গ্রামের শামসুল রহমান সানার ছেলে।