পিরোজপুর সদর উপজেলার কঁচা নদীতে অবস্থিত অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী (বেকুটিয়া) সেতুর নিচ থেকে লোহার পাইপ কাটার সময় ১০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এই অভিযানের সময় পুলিশ একটি স্টিলের ট্রলার, গ্যাস সিলিন্ডার এবং পাইপ কাটার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম জব্দ করেছে।

গত সোমবার (৫ অক্টোবর) রাত ১টার দিকে পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান চালায় এবং অভিযুক্তদের আটক করে। আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন—হুমায়ূন হাওলাদার, মাহাবুব শেখ, আমির হোসেন, বারেক শেখ, মো. সুমন সানা, মো. মিরাজুল ফকির, মো. সাহাদাত শেখ, মো. সিয়াম হাওলাদার, আব্দুল জব্বার ভুট্ট ও মিরাজ শেখ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেকুটিয়া সেতুর নিচে কাজে ব্যবহৃত প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ একটি লোহার পাইপ গ্যাস দিয়ে কেটে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে—এমন খবর পাওয়ার পর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। অভিযানে পাইপ কাটার মুহূর্তেই ১০ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তাদের ব্যবহৃত স্টিলের ট্রলারসহ গ্যাস সিলিন্ডার ও কাটার সরঞ্জামগুলো পুলিশ জব্দ করে।

এদিকে, আটক ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে সদর উপজেলার শারিকতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হেমায়েত বেপারী থানায় গিয়েছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে পাইপ কাটার এই ঘটনার সাথে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

এই অভিযোগের বিষয়ে হেমায়েত বেপারী জানান, এলাকার লোকজনকে ছাড়িয়ে আনতে তিনি থানায় গিয়েছিলেন। তার দাবি, সেতুর নিচে থাকা পাইপগুলো পড়ে ছিল এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা টেন্ডারের মাধ্যমে সেগুলো পেয়েছেন। তবে গভীর রাতে সেগুলো কাটার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

অভিযুক্তদের থানায় নিয়ে আসার সময় হেমায়েত বেপারীকে কয়েকটি ভিডিও ফুটেজেও দেখা গেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি পুনরায় বলেন, আটক ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে আনতেই তিনি থানায় গিয়েছিলেন।

পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম খান এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, হেমায়েত বেপারীর বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিকভাবে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম জানান, "গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পাইপ কাটার সময় ১০ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। এ সময় একটি স্টিলের ট্রলার, গ্যাস সিলিন্ডার ও গ্যাস কাটার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আটক ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।"

পিরোজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সেতুর নদী অংশের বিমের অতিরিক্ত সুরক্ষা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে এই পাইপগুলো ব্যবহার করা হয়। পাইপগুলো সরিয়ে নেওয়ার ফলে সেতুর কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে।