প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক ও নিয়ন্ত্রক বিধি লঙ্ঘনের ১১৫টি অভিযোগের মধ্যে ১১৪টিতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ম্যানচেস্টার সিটির ড্রেসিংরুমে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এখন অপেক্ষা শাস্তির, যা ক্লাবের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলতে পারে। বিশেষ করে সম্ভাব্য পয়েন্ট কর্তনের কারণে প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমনের ঝুঁকি নিয়ে খেলোয়াড়দের মধ্যে উদ্বিগ্নতা ছড়িয়ে পড়েছে।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইংল্যান্ড জাতীয় দলের সদস্য হিসেবে বর্তমানে বাইরে থাকা সিটির খেলোয়াড়দের মধ্যে এই উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি। ক্লাবের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনও জানিয়েছেন, জাতীয় দলের শিবিরে বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বিরতিতে ক্লাবের বিষয়গুলো পাশে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন তাঁরা।
এক ফুটবলারের এজেন্টের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য পয়েন্ট কর্তন নিয়েই উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি। শাস্তির মাত্রা এতটা বড় হতে পারে কি না, যাতে সিটির প্রিমিয়ার লিগে টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়ে সেই প্রশ্নও এখন খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো শাস্তি ঘোষণা করা হয়নি এবং অবনমন কেবল সম্ভাব্য শাস্তিগুলোর একটি।
স্বাধীন কমিশনের রায়ে সিটির বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে প্রিমিয়ার লিগ। ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত বিভিন্ন বাণিজ্যিক চুক্তির মাধ্যমে আয় ও ব্যয়ের প্রকৃত চিত্র আড়াল করার অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে। প্রিমিয়ার লিগের হিসাবে, এসব ব্যবস্থার সঙ্গে ৯০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি অর্থ জড়িত ছিল।
সিটি অবশ্য শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। রায়ের পরও নিজেদের অবস্থান বদলায়নি ইংলিশ ক্লাবটি। কমিশনের সিদ্ধান্তে আইনগত ও তথ্যগত ত্রুটি রয়েছে দাবি করে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে তারা। ক্লাবটির চেয়ারম্যান খালদুন আল মুবারকও সমর্থকদের উদ্দেশে জানিয়েছেন, আইনি লড়াই এখনো শেষ হয়নি এবং নিজেদের নির্দোষ প্রমাণের ব্যাপারে তারা আত্মবিশ্বাসী।
শাস্তির বিষয়টি আলাদা শুনানিতে নির্ধারণ করবে স্বাধীন কমিশন। সম্ভাব্য ব্যবস্থার মধ্যে জরিমানা ও পয়েন্ট কর্তনের পাশাপাশি প্রিমিয়ার লিগ থেকে নিচের স্তরে নামিয়ে দেওয়ার মতো কঠোর শাস্তিও রয়েছে। তবে কোন শাস্তি দেওয়া হবে কিংবা আদৌ অবনমনের মতো সিদ্ধান্ত আসবে কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।