ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শক্তিশালী ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির মালিকপক্ষের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম। ক্লাবটির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এবং সাম্প্রতিক রায়ের ফলে তৈরি হওয়া উত্তেজনার মধ্যেই এবার নিজের অতীত যোগাযোগের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ম্যানসিটির মালিকপক্ষের সঙ্গে তার যে সকল বৈঠক ও কার্যক্রম ছিল, তার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করবেন বলে জানিয়েছেন বার্নহাম।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৯ সেপ্টেম্বর, যখন প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের দায়ে স্বাধীন কমিশন ম্যানচেস্টার সিটিকে দোষী সাব্যস্ত করে। এই রায়ের পর ক্লাবটির আবুধাবিভিত্তিক মালিকপক্ষের সম্ভাব্য বিদায় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন বার্নহাম। একই সঙ্গে ম্যানচেস্টার শহরের অবকাঠামোগত উন্নয়নে ওই মালিকপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক। তিনি দাবি করেন, গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র থাকাকালীন ম্যানসিটির সঙ্গে বার্নহামের সব ধরনের যোগাযোগের তথ্য জনসমক্ষে আনা উচিত। একই দাবি জোরালোভাবে তোলে লিবারেল ডেমোক্র্যাটরাও।
রাজনৈতিক চাপ ও সমালোচনার মুখে পড়ে ‘দ্য রেস্ট ইজ পলিটিকস’ নামক একটি পডকাস্টে কথা বলেন বার্নহাম। সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রচারের জন্য নির্ধারিত ওই সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তথ্য প্রকাশে তার কোনো বাধা নেই। তিনি বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতা আমার বৈঠকগুলোর বিস্তারিত প্রকাশ করতে বলেছেন। এতে আমার কোনো আপত্তি নেই। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে তাদের সঙ্গে কাজ করার সব তথ্যই প্রকাশ করব।’
তবে ক্লাবটির মালিকদের সঙ্গে তার যোগাযোগ খুব বেশি ছিল না বলে দাবি করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষায়, ‘বৈঠকগুলোর কোনোটিই সাম্প্রতিক সময়ের নয়। আসলে উল্লেখযোগ্য বৈঠক হয়েছিল মাত্র একটি, ২০২১ সালে। সেটির বিস্তারিতও প্রকাশ করব।’
ম্যানসিটির আর্থিক অনিয়মের মামলা এবং ম্যানচেস্টার শহরে ক্লাবটির মালিকদের বিনিয়োগকে দুটি ভিন্ন বিষয় হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন বার্নহাম। তার মতে, এই দুটি বিষয়কে এক করে দেখার প্রবণতা তৈরি হয়েছে যা সঠিক নয়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ফুটবলসংক্রান্ত বিষয়গুলো গুরুতর এবং সেগুলোর নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। প্রক্রিয়াটি স্বাধীন, সেটিকে নিজের গতিতে চলতে দিতে হবে। তবে বিনিয়োগের বিষয়টি আলাদা করে দেখা উচিত। কারণ দুটি এক বিষয় নয়।’
উল্লেখ্য, প্রিমিয়ার লিগের স্বাধীন কমিশনের রায়ে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভুয়া বাণিজ্যিক চুক্তি করেছে ম্যানসিটি। স্বাধীন তদন্ত কমিশনের দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত অর্থের উৎস গোপন করে আয় বাড়িয়ে দেখিয়েছে ক্লাবটি। কমিশনের অনুসন্ধান অনুযায়ী, চুক্তির অর্থের একটি অংশ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো দিলেও বাকি অর্থ এসেছে ক্লাবের মালিক শেখ মনসুর বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের প্রতিষ্ঠান আবুধাবি ইউনাইটেড গ্রুপ থেকে।
অন্যদিকে, ম্যানসিটি শুরু থেকেই এই আর্থিক অনিয়মের অভিযোগগুলো অস্বীকার করে আসছে। কমিশনের রায়ে আইনগত ও তথ্যগত গুরুতর ভুল রয়েছে বলে দাবি করে গত ১ অক্টোবর আপিল করেছে ক্লাবটি।
বার্নহামের মন্তব্যের পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ম্যানসিটির বিরুদ্ধে কমিশনের রায়কে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। ডাউনিং স্ট্রিট থেকে জানানো হয়েছে, অনিয়ম চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হলে দায়ীদের অবশ্যই শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।