অ্যানফিল্ডের মাঠে লিভারপুলকে তিন গোলের দাপুটে ব্যবধানে পরাজিত করে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। তবে মাঠের লড়াইয়ে প্রতিপক্ষকে বিধ্বস্ত করলেও স্বস্তির মুখ দেখেনি এই ইংলিশ ক্লাবটি। আর্থিক অনিয়মের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর প্রথম ম্যাচেই প্রতিপক্ষের সমর্থকদের তীব্র বিদ্রূপ ও উপহাসের মুখে পড়তে হয়েছে তাদের। লিভারপুল অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক সতর্ক করে জানিয়েছেন, সামনে আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে ম্যানসিটি।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে ম্যানচেস্টার সিটিকে দোষী সাব্যস্ত করেছে একটি স্বাধীন কমিশন। যদিও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত শাস্তি ঘোষণা করা হয়নি, তবে ক্লাবটি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। সেই আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগেই মাঠের বাইরের বিতর্কের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে খেলার পরিবেশের ওপর।

রোববার (১১ অক্টোবর) লিভারপুলের বিপক্ষে ম্যাচে এই পরিস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়। অ্যানফিল্ড স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর আগে থেকেই চরম বিরূপ পরিবেশের মুখোমুখি হয় ম্যানসিটি দল। সমর্থকদের তীব্র বিক্ষোভ এড়াতে ভিন্ন পথ ব্যবহার করে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে হয় দলটির বাসের। ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারি থেকে বারবার ‘প্রতারক’ স্লোগান ভেসে আসছিল। এছাড়া বিভিন্ন ব্যানার ও বিদ্রূপাত্মক বার্তার মাধ্যমে লিভারপুল সমর্থকেরা ক্লাবটির আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি সামনে নিয়ে আসেন।

তবে মাঠের খেলায় এসব মানসিক চাপের প্রভাব পড়তে দেননি আর্লিং হালান্ড ও তার সতীর্থরা। স্বাগতিকদের ৩-০ গোলে হারিয়ে প্রিমিয়ার লিগে টানা ষষ্ঠ জয় নিশ্চিত করে ম্যানসিটি। তবে লিভারপুল সমর্থকদের এমন আচরণ কেবল একটি ম্যাচেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে মনে করেন ফন ডাইক।

দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লিভারপুল অধিনায়ক বলেন, ‘আমার মনে হয়, সবাই স্লোগানগুলো শুনেছে। প্রত্যেকেরই নিজের অনুভূতি প্রকাশের অধিকার আছে। আমার মনে হয় না অ্যানফিল্ডই একমাত্র জায়গা, যেখানে এমনটা ঘটবে। কারণ সমর্থকদের নিজস্ব অনুভূতি রয়েছে।’

তবে ম্যানসিটির আর্থিক অনিয়মের মামলা নিয়ে এখনই নির্দিষ্ট কোনো অবস্থান জানাতে রাজি হননি ফন ডাইক। তিনি আপিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকতে চান এবং এরপরই বিষয়টি নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করবেন বলে জানিয়েছেন লিভারপুল অধিনায়ক।

ফন ডাইকের মতোই আগামী ম্যাচগুলোতে আরও প্রতিকূল পরিবেশের আশঙ্কা করছেন ম্যানসিটি কোচ এনজো মারেসকা। অ্যানফিল্ডে জয়ের পর এই ইতালিয়ান কোচ জানান, তারা মাঠের পারফরম্যান্সের মাধ্যমেই সব সমালোচনার জবাব দিতে চান।

মারেসকা বলেন, ‘বাইরের আলোচনা ও সমালোচনা থাকবেই। আমাদের শিখতে হবে কীভাবে সেগুলো সামলাতে হয়। একই সঙ্গে আমাদের নিজেদেরও আওয়াজ তুলতে হবে। আর সেটা হলো ম্যাচ জিতে।’

তার মতে, প্রতিপক্ষের মাঠে এই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার জন্য ফুটবলারদের এখন থেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। অ্যানফিল্ডের মতো কঠিন পরিবেশ সামলে জয় ছিনিয়ে আনার জন্য তিনি তার শিষ্যদের মানসিক দৃঢ়তার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএসের এক বিশ্লেষণেও একই ধরনের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। তাদের মতে, অ্যানফিল্ডের এই অভিজ্ঞতা আগামী দিনগুলোতে ম্যানসিটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। প্রিমিয়ার লিগে ক্লাবটির সামনে আরও ১৫টি অ্যাওয়ে ম্যাচ বাকি রয়েছে। আর্থিক অনিয়মের রায়ের কারণে সেসব মাঠেও তারা সমর্থকদের তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হতে পারে।

এদিকে ম্যানসিটির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক দুই ফুটবলার জেমি ক্যারাঘার ও গ্যারি নেভিল। স্কাই স্পোর্টসে কথা বলার সময় ক্যারাঘার বলেন, শুধু পয়েন্ট কেটে এক মৌসুমের জন্য অবনমন ঘটানো যথেষ্ট শাস্তি হবে না। তার মতে, এই বিষয়ের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ম্যানসিটির সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাবে।

নেভিলও মনে করেন, এই বিতর্কের প্রভাব কেবল ম্যানসিটির ওপর নয়, বরং পুরো প্রিমিয়ার লিগের ভাবমূর্তির ওপর পড়ছে। আপিলের রায় না আসা পর্যন্ত এই অনিশ্চয়তা কাটবে না।

অন্যদিকে, ম্যানসিটি শুরু থেকেই নিজেদের নির্দোষ বলে দাবি করে আসছে। গত ১ অক্টোবর আপিল করার পর ক্লাবটি জানিয়েছে, স্বাধীন কমিশনের সিদ্ধান্তে আইনগত ও তথ্যগত গুরুতর ভুল রয়েছে। তাই আপিল প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত শাস্তির ধরন বা পরিণতি নিয়ে নিশ্চিত কিছু বলা সম্ভব নয়।

এর মধ্যেই চ্যাম্পিয়নস লিগের একটি বড় ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে ম্যানসিটি। আগামী বুধবার (১৪ অক্টোবর) নিজেদের মাঠ ইতিহাদ স্টেডিয়ামে প্যারিস সেন্ট জার্মেইর (পিএসজি) মুখোমুখি হবে তারা। এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিজেদের সমর্থকদের পূর্ণ সমর্থন পাওয়ার আশা করছে ক্লাবটি।