প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক বিধিমালা লঙ্ঘনের ১১৫টি অভিযোগের মধ্যে ১১৪টিতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার খবরে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার সিটি। ক্লাবটি ঠিক কী ধরনের শাস্তির সম্মুখীন হতে পারে, তা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক জল্পনা চলছে।

এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো শাস্তির ঘোষণা না দিলেও প্রিমিয়ার লিগের নিয়ম অনুযায়ী স্বাধীন কমিশনের হাতে ব্যাপক ক্ষমতা রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ক্লাবটিকে বড় অঙ্কের জরিমানা, পয়েন্ট কর্তন কিংবা চরম পর্যায়ে প্রতিযোগিতা থেকে বহিষ্কারের মতো কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করা হতে পারে।

দ্য অ্যাথলেটিকের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সিটির শাস্তি এখনো নির্ধারিত হয়নি এবং সব ধরনের সম্ভাবনাই খোলা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, রায় ঘোষণার পর ক্লাবটি এর বিরুদ্ধে আপিল করবে, যার ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে আরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে।

প্রিমিয়ার লিগের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, গুরুতর বিধিভঙ্গের ক্ষেত্রে স্বাধীন ট্রাইব্যুনাল জরিমানা, পয়েন্ট কর্তন এবং চরম পর্যায়ে লিগ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো ক্লাবকে এই প্রক্রিয়ায় বহিষ্কার করা হয়নি।

কমিশন চাইলে কেবল একটি শাস্তিতে সীমাবদ্ধ না থেকে একাধিক শাস্তি একসঙ্গে প্রদান করতে পারে। ফলে বড় অঙ্কের জরিমানার পাশাপাশি পয়েন্ট কর্তনের মতো যৌথ শাস্তির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

অন্যদিকে, পুরনো শিরোপা কেড়ে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হলেও প্রিমিয়ার লিগের প্রকাশিত শাস্তির তালিকায় শিরোপা বাতিলের কথা আলাদাভাবে উল্লেখ নেই। তবে আইন ও ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, কমিশনের বিস্তৃত ক্ষমতার কারণে তাত্ত্বিকভাবে এটি সম্ভব, যদিও একে নিশ্চিত সম্ভাব্য শাস্তি হিসেবে ধরে নেওয়া যাচ্ছে না।

সাম্প্রতিক সময়ে আর্থিক নিয়ম ভাঙার দায়ে এভারটন ও লেস্টারের মতো ক্লাবের পয়েন্ট কাটা হলেও ম্যানচেস্টার সিটির মামলার ধরন ও ব্যাপ্তি সম্পূর্ণ আলাদা। তাই পূর্ববর্তী উদাহরণ দেখে সিটির শাস্তির পরিমাণ অনুমান করা কঠিন।

আপাতত পয়েন্ট কর্তন, অবনমন বা শিরোপা বাতিলের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রথমে স্বাধীন কমিশন শাস্তি নির্ধারণ করবে এবং এরপর সিটির আপিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত পরিণতি নির্ধারিত হবে।