কয়েক দিন আগেই টাইব্রেকারে ব্রাইটনকে পরাজিত করে লিগ কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল ম্যানচেস্টার সিটি। তবে প্রিমিয়ার লিগের লড়াইয়ে একই প্রতিপক্ষের সামনে অসহায় হয়ে পড়ল এনজো মারেস্কার শিষ্যরা। নিজেদের মাঠের সুবিধা থাকা সত্ত্বেও একের পর এক সুযোগ নষ্ট করে ১-০ গোলের ব্যবধানে হেরে গেল আর্লিং হালান্ডরা। ইয়াসিন আইয়ারির করা একমাত্র গোলে টানা দ্বিতীয় লিগ ম্যাচে পরাজয়ের স্বাদ পেল সিটি। এই জয়ের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো প্রিমিয়ার লিগে সিটির মাঠ থেকে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে ফেরার ইতিহাস গড়ল ব্রাইটন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ম্যানচেস্টারের ইতিহাদ স্টেডিয়ামে প্রিমিয়ার লিগের নবম রাউন্ডের ম্যাচে মুখোমুখি হয় দুই দল। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ১১ মিনিটে সুইডিশ মিডফিল্ডার আইয়ারির গোলে লিড নেয় ব্রাইটন। এরপর পুরো ম্যাচ জুড়ে ক্রমাগত আক্রমণ চালিয়েও স্বাগতিকরা আর সমতায় ফিরতে সক্ষম হয়নি।
গত সপ্তাহে অ্যাস্টন ভিলার মাঠে ২-১ গোলে হেরে চলতি মৌসুমে প্রথম লিগ পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছিল সিটি। এরপর বুধবার লিগ কাপে ব্রাইটনের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয়লাভ করেছিল মারেস্কার দল। তবে তিন দিনের ব্যবধানে পুনরায় মুখোমুখি হয়ে এবার প্রতিশোধ নিল ফাবিয়ান হুরৎসেলারের নেতৃত্বাধীন ব্রাইটন।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল প্রদর্শনের চেষ্টা করে। তবে সুযোগ কাজে লাগাতে খুব বেশি সময় নেয়নি অতিথিরা। ১১ মিনিটে লুইস ডাঙ্কের একটি লম্বা পাস ধরে ডান প্রান্ত দিয়ে দ্রুত এগিয়ে যান দিয়েগো গোমেস। তার দেওয়া নিচু ক্রসটি ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হন সিটির ম্যাথেউস নুনেস। বলটি ম্যাক্সিম দে কাইপারের পায়ে লেগে আইয়ারির কাছে চলে আসে এবং কাছ থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে ব্রাইটনকে এগিয়ে দেন এই মিডফিল্ডার।
শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে সিটি। বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রেখে ব্রাইটনের রক্ষণভাগের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন হালান্ড, জেরেমি ডোকু ও ইলিমান এনদিয়ায়ে। তবে একের পর এক সুযোগ নষ্ট করায় প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিল ব্রাইটন। ৪৯ মিনিটে ফাঁকায় বল পেয়েও দে কাইপারের শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। এর পরপরই পাল্টা আক্রমণে ব্রাইটনের রক্ষণে চাপ বাড়ায় সিটি। ৫৩ মিনিটে এনদিয়ায়ের একটি জোরালো শট দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক বার্ট ফেরব্রুগেন। তার হাত ছুঁয়ে বলটি ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।
গোলের খোঁজে ৫৫ মিনিটে আয়ুব বুয়াদ্দির পরিবর্তে রায়ান শেরকিকে মাঠে নামান সিটি কোচ মারেস্কা। মাঠে নেমে আক্রমণে গতি বাড়ান এই ফরাসি ফুটবলার। তার পাস থেকে সুযোগ পেয়েও ফেরব্রুগেনকে পরাস্ত করতে পারেননি নুনেস।
ম্যাচের শেষ দিকে ফিল ফোডেনকে নামিয়েও কাঙ্ক্ষিত গোল পায়নি সিটি। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে নিকো ও'রাইলির হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। শেষ মুহূর্তে কর্নার থেকে আক্রমণে সহায়তা করতে প্রতিপক্ষের বক্সে উঠে আসেন গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মাও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফলাফল বদলায়নি।
এই জয়ের মাধ্যমে এক ঐতিহাসিক অপেক্ষার অবসান ঘটাল ব্রাইটন। এর আগে ম্যানচেস্টার সিটির মাঠে ১৬টি লিগ ম্যাচ খেলে একটিতেও জিততে পারেনি তারা। ১২টি হারের পাশাপাশি চার ম্যাচে ড্র করেছিল দলটি। এবার ১৭তম প্রচেষ্টায় প্রথম জয় পেল ব্রাইটন।
অন্যদিকে এই হারের ফলে ইতিহাদে সিটির টানা ২৪ প্রিয়ার লিগ ম্যাচে গোল করার ধারাবাহিকতাও ভেঙে গেল। পাশাপাশি মারেস্কার অধীনে প্রথমবারের মতো টানা দুই লিগ ম্যাচে হারল তারা।
এই পরাজয়ের পরও নয় ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত টেবিলের শীর্ষে রয়েছে সিটি। সমান পয়েন্ট নিয়ে এক ম্যাচ কম খেলা আর্সেনাল দ্বিতীয় স্থানে। অন্যদিকে নয় ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে ব্রাইটন। রোববার লিভারপুলের বিপক্ষে আর্সেনাল জয়লাভ করলে শীর্ষস্থান হারাবে সিটি।
লিগ কাপ থেকে বিদায়ের মাত্র তিন দিনের মাথায় একই মাঠে সিটিকে হারিয়ে মধুর প্রতিশোধ নিল ব্রাইটন। আর টানা দুই লিগ ম্যাচে হেরে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে বড় ধাক্কা খেল মারেস্কার দল।