ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার সিটির জয়জয়কার অব্যাহত রয়েছে। তবে স্বাগতিক হয়ে ইপসউইচ টাউনের মুখোমুখি হয়ে বেশ কঠিন লড়াইয়ের সম্মুখীন হতে হয়েছে তাদের। ম্যাচের বিভিন্ন সময়ে দুই দফায় লিড নিয়ে এগিয়ে গেলেও শেষ মুহূর্তে চাপে পড়েছিল সিটি। তবে শেষ পর্যন্ত আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে তারা। এই জয়ের মাধ্যমে প্রিমিয়ার লিগে এক অনন্য ইতিহাস গড়েছেন দলের কোচ এনজো মারেস্কা।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) ইতিহাদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে জয়ের ফলে মৌসুমের প্রথম সাতটি ম্যাচের সবকটিতেই জয়লাভ করল ম্যানচেস্টার সিটি। প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে প্রথম কোচ হিসেবে নতুন কোনো ক্লাবের দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের প্রথম সাতটি ম্যাচের সবকটিতেই জয়ের রেকর্ড স্পর্শ করলেন মারেস্কা। সাত ম্যাচে পূর্ণ ২১ পয়েন্ট অর্জন করে লিগ টেবিলের শীর্ষস্থান আরও শক্তিশালী করল তার দল।

খেলার শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে সিটি। তবে প্রথম গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয় ১৯ মিনিট। জেরেমি ডোকুর দেওয়া একটি নিচু পাস থেকে প্রথম স্পর্শেই বল জালে পাঠিয়ে স্বাগতিকদের লিড এনে দেন ফিল ফোডেন। ম্যানচেস্টার ডার্বিতে লাল কার্ড দেখার পর দীর্ঘ বিরতির পর দলে ফিরে গোল করেই নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করলেন এই ইংলিশ মিডফিল্ডার।

তবে সিটির এই আনন্দ স্থায়ী হয় মাত্র দুই মিনিট। ম্যাচের ২১ মিনিটে একটি দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে সমতায় ফেরায় ইপসউইচ। মার্ক গেহিকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গিয়ে জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মাকে পরাস্ত করে গোল করেন জাপানি ফুটবলার দাইজেন মায়েদা।

সমতায় ফিরলেও সফরকারী দল খুব বেশি সময় সিটিকে আটকে রাখতে পারেনি। ৩৪ মিনিটে আবারও লিড নেয় মারেস্কার শিষ্যরা। মাতেও কোভাচিচের একটি নিখুঁত পাস থেকে হেডে গোল করেন আর্লিং হালান্ড। ইপসউইচের গোলরক্ষক ক্রিশ্চিয়ান ওয়ালটন বলটি ঠেকানোর আপ্রাণ চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তা ব্যর্থ হন। ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে প্রবেশ করে স্বাগতিক দল।

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার ধরে রাখে ম্যানচেস্টার সিটি। ৬৯ মিনিটে নিজের ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোলটি করেন হালান্ড। ইলিমান এনদিয়ায়ের পাস থেকে বল পেয়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার আবদুল উয়াতারাকে কাটিয়ে বল জালে পাঠান এই নরওয়েজীয় স্ট্রাইকার। এর ফলে ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ৩-১।

এরপর ব্যবধান আরও বাড়ানোর একাধিক সুযোগ পায় সিটি। এনজো ফার্নান্দেজের একটি প্রচেষ্টা রুখে দেন ইপসউইচের গোলরক্ষক ওয়ালটন। অন্যদিকে এনদিয়ায়ের নেওয়া একটি শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ৮৫ মিনিটে হালান্ড আরও একবার বল জালে পাঠালেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)-এর পর্যালোচনায় অফসাইড ধরা পড়ায় তাঁর হ্যাটট্রিক করার সুযোগ হাতছাড়া হয়।

ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলে ইপসউইচ। সিটির ডিফেন্ডার মার্ক গেহি আবদুল ফাতাউকে ফাউল করলে ভিডিও রেফারির পর্যালোচনার পর পেনাল্টি পায় সফরকারীরা। ৯০ মিনিটে সেই পেনাল্টি থেকে ব্যবধান কমিয়ে আনেন জিয়ান ফ্লেমিং। তবে ইনজুরি টাইমে যোগ করা ১২ মিনিট সময় পাওয়া সত্ত্বেও আর সমতায় ফিরতে পারেনি ইপসউইচ।

এই জয়ের মাধ্যমে ১২৯ বছর আগের নিজেদের এক পুরনো রেকর্ডে ভাগ বসাল ম্যানচেস্টার সিটি। ১৮৯৭-৯৮ মৌসুমের পর এবারই প্রথম লিগের শুরুর সাতটি ম্যাচের সবকটিতেই জয় পেল এই ম্যানচেস্টার ক্লাবটি।

বর্তমানে সাত ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা সিটি দ্বিতীয় স্থানে থাকা আর্সেনালের চেয়ে ছয় পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছে, যদিও আর্সেনাল একটি ম্যাচ কম খেলেছে। আগামী মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এইকে এথেন্সের মুখোমুখি হবে মারেস্কার দল।