সকালের নাশতায় শিশুদের কী খাওয়াবেন, তা নিয়ে অনেক অভিভাবকই চিন্তিত থাকেন। সকালে শিশুর মস্তিষ্ক অত্যন্ত সক্রিয় থাকে; তাই এই সময়ে তারা যা খায়, তা তাদের মেধা ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া স্কুলে যাওয়ার আগে শিশুদের খাদ্যাভ্যাসের ওপর তাদের ক্লাসে মনোযোগী হওয়ার ক্ষমতাও নির্ভর করে।

অনেকেই শিশুদের অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত (প্রসেসড) খাবার খাওয়ান, যাতে তাদের শরীরে শক্তির অভাব দেখা দেয় এবং মনোযোগের ঘাটতি হয়। এর ফলে শরীরের বৃদ্ধিও ব্যাহত হতে পারে। তাই সকালের নাশতায় এমন খাবার দেওয়া উচিত যা প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা মেটাবে এবং মস্তিষ্ককে চাঙা রাখতে সাহায্য করবে।

শিশুর মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সকালের নাশতায় নিচের খাবারগুলো অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে:

ডিম
ডিমকে শিশুদের জন্য পরিপূর্ণ ব্রেন ফুড হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ডিমে মানসম্মত প্রোটিন এবং 'কোলিন' (Choline) নামক একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে। এটি মস্তিষ্কের কিছু রাসায়নিক উপাদান তৈরি করে, যা শিশুর শেখার ক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সহায়ক। সকালে একটি ডিম খেলে শিশুর পেট দীর্ঘ সময় ধরে ভরা থাকে।

ওটস
ওটস হলো দীর্ঘস্থায়ী কর্মক্ষমতার জন্য ধীরগতির শক্তির উৎস। ওটসে থাকা কার্বোহাইড্রেট শরীরে খুব ধীরে ধীরে শক্তি জোগায়, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে বা কমে যায় না। ওটসে প্রচুর ফাইবার ও ভিটামিন-বি থাকায়, সকালের নাশতায় ওটস বা ওভারনাইট ওটস খেলে শিশুরা দীর্ঘ সময় ধরে স্কুলে পড়াশোনায় মনোযোগী ও শান্ত থাকতে পারে।

বাদাম ও বীজ
আখরোট, কাঠবাদাম, তিশি এবং চিয়া বীজে প্রচুর ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড, ভিটামিন-ই এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এগুলো মস্তিষ্কের কোষকে সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি স্মৃতিশক্তি বাড়ায়। সকালে দুধ, দই বা স্মুদির সঙ্গে ভিজিয়ে রাখা বাদাম ও বীজ মিশিয়ে দিলে মস্তিষ্ক ভালো পুষ্টি পায়।

তাজা ফলমূল
কলা, বেরি, আপেল বা কমলার মতো তাজা ফলে ফাইবার, ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পাশাপাশি প্রাকৃতিক চিনি থাকে। এটি মস্তিষ্ককে অতিরিক্ত সক্রিয় না করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ শক্তি যোগায়। বিশেষভাবে বিভিন্ন ধরনের বেরি মেমোরি শার্প করতে সাহায্য করে। সকালের নাশতায় ফল রাখলে শিশুরা সতেজ ও প্রাণবন্ত থাকে।

দুধ ও দই
দুধ ও দইকে ক্যালসিয়াম ও প্রোটিনের খনি বলা হয়। এতে থাকা ক্যালসিয়াম, প্রোটিন এবং ভিটামিন-বি মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে। বিশেষ করে দইয়ের প্রোবায়োটিক উপাদান পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখার পাশাপাশি মস্তিষ্কের ফাংশন বাড়াতেও কার্যকর। সকালে এক গ্লাস দুধ বা কিছুটা দই শিশুর মনোযোগ বাড়াতে ভালো কাজ করে।

শিশুদের পড়াশোনায় মনোযোগ ও মস্তিষ্কের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে প্রক্রিয়াজাত বা প্রসেসড খাবার এড়িয়ে সকালে প্রোটিন, ভিটামিন ও ভালো ফ্যাটযুক্ত খাবারগুলো দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

সোর্স: টাইমস এন্টারটেইনমেন্ট