মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপদের জেলাভিত্তিক তদারকি দায়িত্ব বণ্টন সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর ১১ সংসদ সদস্য আবেদনকারী হয়ে আজ রোববার এ রিটটি দায়ের করেন।
গত ২৭ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ দেশের ৬৪ জেলায় সরকারি কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপকে দায়িত্ব প্রদান করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ রয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা সংশ্লিষ্ট জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের তদারকি করবেন। এই তালিকায় কেউ একটি, আবার কেউ দুই থেকে তিনটি জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন।
রিট আবেদনকারী পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান (নাজিব মোমেন) জানান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ২৭ আগস্টের এ প্রজ্ঞাপনটি কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা নিয়ে রুল জারি করতে হাইকোর্টের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে। রুল হলে প্রজ্ঞাপনটির কার্যক্রম স্থগিত রাখারও নির্দেশ চেয়েছেন তিনি। রিটের বিবাদী করা হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবকে।
বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন আবেদনকারীদের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি বলেন, ২০০১ সালে একই ধরনের জেলাভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছিল। তখন সেই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে রিট দায়ের করা হয়। ওই মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ দায়িত্ব বণ্টন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছিলেন। রুলস অব বিজনেস, বাংলাদেশের সংবিধান ও উচ্চ আদালতের ওই রায় অনুযায়ী বর্তমান প্রজ্ঞাপনটিও বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, রিট দায়েরকারী বাকি ১০ সংসদ সদস্য হলেন—ঢাকা-১৪ আসনের মীর আহমাদ বিন কাসেম, রংপুর-৫ আসনের মো. গোলাম রব্বানী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের মো. নূরুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের মো. মাসুদ পারভেজ, যশোর-১ আসনের মুহাম্মাদ আজীজুর রহমান, বাগেরহাট-২ আসনের শেখ মনজুরুল হক (রাহাদ), পটুয়াখালী-২ আসনের মো. শফিকুল ইসলাম, শেরপুর-১ আসনের মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, গাজীপুর-৪ আসনের সালাহ উদ্দিন ও চট্টগ্রাম-১৬ আসনের মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।