বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পেড়িখালী ইউনিয়নে রোমজাইপুর থেকে উড়াবুনিয়া পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার এলাকায় নদীভাঙন রোধে দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল ১০টায় রোমজাইপুর পূর্বপাড়া ঘোষিয়া খালীর তীরে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত তিন শতাধিক নারী ও পুরুষ এতে অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা হাতে নিয়েছিলেন বিভিন্ন লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড। সেগুলোতে ছিল ‘এখনই টেকসই বেড়িবাঁধ চাই’, ‘জীবনের বিনিময়ে ফেরি পাচ্ছি, আমাদের চাই টেকসই বাঁধ’ এবং ‘আমাকে বিক্রি করো, কিন্তু বাঁধ দাও’।
বক্তারা জানান, নদীভাঙনের কারণে রোমজাইপুর ও আশপাশের এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগে ভুগছেন। ইতোমধ্যে বহু ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের কারণে যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, নদীর তীব্র স্রোত ও জাহাজ চলাচলের ঢেউয়ের কারণে ভাঙন আরও বাড়ছে। পাশাপাশি নদী খননের নামে অপরিকল্পিত কাজের কারণেও পরিস্থিতি জটিল হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। ভাঙা রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
পেড়িখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বয়জিৎ শেখ বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, বছরের পর বছর ধরে এলাকাটি নদীভাঙনের কবলে রয়েছে। বহু পরিবার বসতভিটা ও কৃষিজমি হারিয়েছে। দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা না হলে পুরো গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
একই ইউনিয়নের ইউপি সদস্য রিনা বেগম হিনা জানান, প্রতিদিন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে রোমজাইপুরের অস্তিত্ব মানচিত্র থেকে মুছে যেতে পারে।
অন্যদিকে, স্থানীয় উদ্যোক্তা ফিরোজ মাঝি বলেন, নদীভাঙনের কারণে মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তিনি সরকারের কাছে দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।