দেশের ৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও উন্নয়ন তদারকির জন্য সরকার যে বিশেষ কাঠামো করেছে, সেখানে বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।
বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসনের সংযোগ অধিশাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপরা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সাংবিধানিক ও আইনগত সংস্থার ক্ষমতা খর্ব না করে সংশ্লিষ্ট জেলায় সরকারের সার্বিক কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয় করবেন। নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নও এই নজরদারির আওতায় থাকবে।
জয়পুরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য হয়েও আব্দুল বারী নিজ জেলার পরিবর্তে প্রতিবেশী বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পেয়েছেন। জয়পুরহাট ও নওগাঁর দায়িত্ব গেছে প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সারের কাছে।
মো. আব্দুল বারী বর্তমানে— জয়পুরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য (কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর উপজেলা; আসন নং-৩৫)
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে)
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী (২৫ মার্চ ২০২৬ থেকে)
বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত (২৭ আগস্ট ২০২৬)
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারে তিনি প্রথমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পান। ২৫ মার্চ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে খাদ্য মন্ত্রণালয়ও যুক্ত হয়। আগস্টের মন্ত্রিসভা রদবদলের পর খাদ্য মন্ত্রী আফরোজা খানম; প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আব্দুল বারীই আছেন। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটেও তাঁকে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা আছে।
১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে জয়পুরহাট-২ আসনে তিনি ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫ ভোট পান। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর এস এম রাশেদুল আলম পান ৯২ হাজার ৫১৭ ভোট। ব্যবধান ৬৫ হাজার ৫৪৮। আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৫১ হাজার ৫৭২ জন; ভোটের হার ৭৩.৪৩ শতাংশ।
১৭ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথের কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও শপথ নেন। প্রায় দুই দশক পর জয়পুরহাট জেলা থেকে মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব ফেরে এই নিয়োগের মধ্য দিয়ে। এলাকায় তিনি ‘ডিসি বারী’ নামে পরিচিত।
জন্ম ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৫, কালাই উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের বলিশিব সমুদ্র গ্রামে। পিতা মরহুম জাফের আলী মন্ডল, মাতা মরহুমা মিছিরুন্নেছা বেগম। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর। ছাত্রজীবনে হবিবুর রহমান হল ছাত্র সংসদের সহ-ক্রীড়া সম্পাদক ছিলেন এবং শহীদ জিয়ার আদর্শে জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে যুক্ত হন।
১৯৮২ সালের বিশেষ বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দিয়ে সহকারী কমিশনার, ইউএনও, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, মানিকগঞ্জ ও ঢাকার জেলা প্রশাসক, ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পরিচালক (প্রশাসন) এবং জাতীয় পুষ্টি কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। পরে সচিব পদমর্যাদায় অবসরের সুবিধা পান।
অবসরের পর বিএনপিতে যোগ দিয়ে প্রথম নির্বাচনী লড়াইয়েই সংসদে যান। যে মন্ত্রণালয়ের অধীনে একসময় চাকরি করেছেন, সেই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়েই তিনি এখন প্রতিমন্ত্রী।
এর আগে মুক্তকণ্ঠে তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে চাঁদাবাজি-দুর্নীতি বন্ধ, মাদকমুক্ত সমাজ, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড, খাল খনন এবং আলুচাষিদের পুনর্বাসনের প্রসঙ্গ। মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ছদ্মবেশে উপজেলা পরিষদ পরিদর্শনের খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
সরকারের ব্যাখ্যা, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত মন্ত্রিসভা মনে করে ‘ফ্যাসিস্ট আমলে’ জেলাভিত্তিক উন্নয়ন বরাদ্দ কাগজে থাকলেও অর্থ লুট হয়েছে; অংশ বিদেশে পাচার এবং মাদক ও নিরাপত্তাহুমকিতে ব্যবহার হয়েছে। সেই পটভূমিতেই জেলা তদারকির এই কাঠামো।
এখন আব্দুল বারী নিজ আসন জয়পুরহাট-২, জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং বগুড়া-চাঁপাইনবাবগঞ্জ—এই চার স্তরে একসঙ্গে কাজ করবেন।