মানব পাচারের গুরুতর অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক সাইফুল্লাহ আল–মামুন। গতকাল সোমবার (১৩ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাইফুল্লাহ আগে ব্রাজিলে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। গত ৮ জুলাই তাঁকে ব্রাজিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়। এরপর সোমবার প্রথমবারের মতো তাঁকে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের লরেডো ফেডারেল আদালতে হাজির করা হয়।

সাইফুল্লাহর বিরুদ্ধে দাখিল করা দ্বিতীয় সংশোধিত অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে মানব পাচারের একটি ষড়যন্ত্রে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল। আদালতের নথি অনুযায়ী, সাইফুল্লাহ এবং তাঁর দুই সহ-অভিযুক্ত— ৪৬ বছর বয়সী মোহাম্মদ মিলন হোসেন ও ৩৮ বছর বয়সী মোক্তার হোসেন একটি বৃহৎ মানব পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁরা ব্রাজিলের সাও পাওলোসহ দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা ও মেক্সিকোর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বহু বিদেশিকে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সহায়তা করতেন এবং অন্যান্য পাচারকারীদেরও সহযোগিতা প্রদান করতেন।

অভিযোগে বিস্তারিত বলা হয়েছে, সাইফুল্লাহ এই বিদেশিদের সাও পাওলোতে রাখার ও যাতায়াতের ব্যবস্থা করতেন। অন্যদিকে, মিলন মেক্সিকোর তাপাচুলায় তাঁদের রাখতেন এবং সেখান থেকে মন্তেরেতে পাঠানোর ব্যবস্থা করতেন। মোক্তার তাঁদের মন্তেরেতে রাখা এবং রিও গ্রান্দে নদী পার হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের নির্দেশনা দিতেন, যদিও অনেকের জন্য এই নদী পার হওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ত। এসব ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশের জন্য বাংলাদেশে থাকা দালালদের মোটা অঙ্কের অর্থ প্রদান করতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সাইফুল্লাহকে ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর ব্রাজিলে গ্রেপ্তার করা হয়।

মার্কিন বিচার বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, এই চক্রের অন্য দুই সদস্য মিলন ও মোক্তার নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছেন এবং তাঁদের উভয়েরই ৪৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সাইফুল্লাহর বিরুদ্ধে বিদেশি নাগরিককে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে আনার ষড়যন্ত্র, আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে মানব পাচার এবং অবৈধ প্রবেশে উৎসাহিত ও সহায়তা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে মানব পাচারের সব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে সাইফুল্লাহর ৫ থেকে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। এছাড়া ষড়যন্ত্র ও সহায়তার অভিযোগে দোষী হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

উল্লেখ্য, মার্কিন বিচার বিভাগের জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স আলফার (জেটিএফএ) তৎপরতায় এখন পর্যন্ত দেশ-বিদেশে ৪৬৪ জনের বেশি মানব পাচারকারী ও সহযোগীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৪১৪ জনের বেশি আসামির যুক্তরাষ্ট্রে দণ্ড কার্যকর হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।