জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য মো. জাহিদ হাসানকে প্রক্টর অফিসে তলব করা হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তায় জলাবদ্ধতা তৈরি হলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষাক্রম স্থগিত না করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন জাহিদ। এই পোস্টের প্রেক্ষিতেই তাঁকে হাজির হতে বলা হয়েছে।

ইংরেজি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জাহিদ জকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সদস্যপদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। গত সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন জাহিদের বিভাগীয় চেয়ারম্যানের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে তাঁকে তলব করেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, জাহিদ ফেসবুকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও উপাচার্য সম্পর্কে মানহানিকর মন্তব্য করেছেন। প্রক্টর জানান, তিনি জাহিদের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার কল করলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় তাঁকে প্রক্টর অফিসে উপস্থিত হতে অনুরোধ করা হয়।

জাহিদ জানান, আজ সকাল ১০টায় তিনি প্রক্টর অফিসে উপস্থিত হয়েছিলেন। তবে মিটিং থাকায় তাঁকে বেলা ২টার পর পুনরায় আসতে বলা হয়েছে।

গত রোববার রাতে জলাবদ্ধতার মুখে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা না করায় জাহিদ ফেসবুকে ওই পোস্টটি দেন। তিনি দাবি করেন, কয়েক দিনের জন্য ক্লাস ও পরীক্ষা অনলাইনে নেওয়ার বিষয়ে সেদিন বিকেল থেকেই জকসুর পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। প্রশাসন বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিলেও রাত পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

পোস্টে উপাচার্য অধ্যাপক রইছ উদ্দিনের সঙ্গে কথোপকথনের কিছু স্ক্রিনশট যুক্ত করে জাহিদ লেখেন, সন্ধ্যার পর থেকে জকসুর নেতারা উপাচার্য ও ট্রেজারারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে উপাচার্য জকসুর ভিপির ফোনও ধরেননি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সমালোচনা করে তিনি লেখেন, ‘...সত্যি বলতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সময়েই প্রশাসন ব্রেইনলেস কাজে এগিয়ে থাকে। বর্তমান প্রশাসনের ওপরে আমাদের আস্থা ছিল আকাশচুম্বী, কিন্তু এইসব সহজ সিদ্ধান্ত নিতেও যদি তাদের রকেট সায়েন্স বুঝতে হয়, তাহলে আমাদের কিছুই বলার নাই আসলে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "জাহিদের ফেসবুক পোস্টে মানহানির বিষয়টি ফুটে উঠেছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সবারই আছে। তিনিও মতপ্রকাশ করতে পারেন। তবে অশালীনভাবে নয়। তিনি নিজে প্রায় ১০ বার তাঁর মুঠোফোনে কল করেছেন। কিন্তু তিনি কল ধরেননি। তাই তাঁর বিভাগীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে তাঁকে মঙ্গলবার প্রক্টর অফিসে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।"

অন্যদিকে, ফেসবুক পোস্ট প্রসঙ্গে জাহিদ বলেন, ‘আমি প্রশাসন বা উপাচার্যকে নিয়ে মানহানি করে কিছু লিখিনি। ক্যাম্পাস বন্ধ দেওয়ার বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বারবার জানার চেষ্টা করছিল। তখন জকসু ভিপি সিআরদের (শ্রেণী প্রতিনিধি) গ্রুপে উপাচার্যের সাথে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের কিছু স্কিনশর্ট পাঠান। আমি সেগুলো নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছি।’