কুড়িগ্রামে মাটির স্বাস্থ্য কার্ড চালু, কৃষকদের ভোগান্তি
কুড়িগ্রামে কৃষকদের সার সংগ্রহ পদ্ধতি সুশৃঙ্খল করতে ‘মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা কার্ড’ চালু করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। তবে কার্ড বিতরণের পাশাপাশি সারের অভাবে কৃষকরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
কুড়িগ্রামে কৃষকদের সার সংগ্রহ পদ্ধতি সুশৃঙ্খল করতে ‘মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা কার্ড’ চালু করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। তবে কার্ড বিতরণের পাশাপাশি সারের অভাবে কৃষকরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
কুড়িগ্রামের উলিপুরে নির্ধারিত দামে সার না পাওয়া ও কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেন কৃষকরা।
কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি বছরে কৃষক পর্যায়ে বেশি সার সরবরাহ করা হলেও কিছু এলাকায় সারের সংকট রয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমানউল্লাহ আমান দাবি করেছেন যে দেশে সারের সংকট নেই। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ আমলের কিছু ডিলার গুদামে সার জমা রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।
ফেনীর ফুলগাজীতে জনসভাস্থল পরিদর্শনকালে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন জানান, দেশে সারের সংকট নেই। তিনি অভিযোগ করেন, সার ডিলারের বদলে অন্য গোডাউনে পাওয়া যাচ্ছে, যা দুষ্ট লোকের কারণে দেশ ও সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
সার ডিলারশিপ নিয়ে রাজনৈতিক দৌড়ঝাঁপ ও প্রভাবশালীদের চাপে বিতরণ ব্যাহত হচ্ছে। সরকারি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ডিলারদের অনিয়ম ও কৃষকদের ক্ষোভের চিত্র।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের মানুষ ভালো নেই, দেশও ভালো নেই। বিদ্যুৎ ও সারের সংকট চরমে। মানুষ কষ্ট পাচ্ছে।
সারের সংকটে যদি চালের দাম ১০ শতাংশ বাড়ে, তাহলে নতুন করে দরিদ্র হবে ১৪ লাখ মানুষ।
সারসংকট নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে বিতর্ক হয়েছে।
বৈশ্বিক জ্বালানি ও সার সংকটে খাদ্যনিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য কৌশলগত মজুত, আমদানি বৈচিত্র্য ও লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তার ওপর জোর দিতে হবে।
রাজশাহীর পুঠিয়ায় সার সংকট ও সরকারি মূল্যে সার না পাওয়ায় কৃষকরা ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন। প্রশাসনের আশ্বাসে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
চলতি আমন মৌসুমে সারের সংকট ও ডিলারদের কারসাজির অভিযোগে লালমনিরহাটে কৃষকরা রংপুর-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করেন। জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে কৃষকরা গুদাম থেকে ১৯৮ বস্তা সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দেশব্যাপী আলোচনা তৈরি হয়েছে; মূল সংকট ঘাটটির চেয়ে ন্যায়বিচার ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার দিকে ইঙ্গিত করে।
আইনশৃঙ্খলা, সারসংকট, শ্রমিক হয়রানি ও পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমন চাষের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার না পাওয়ায় কৃষকরা চরম বিপাকে। ডিলার ও খুচরা দোকানে সারের কৃত্রিম সংকট ও চড়া দামের অভিযোগ উঠেছে। জেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়েছে, তবুও মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র ভিন্ন।
খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম ঘোষণা দিয়েছেন, খাদ্যগুদামে অনিয়ম বা গাফিলতি পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঝিনাইদহে ধান চাষের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সার সংকটের অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের দাবি, সরকারি দামে সার পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে কৃষি বিভাগের দাবি, জেলায় পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।
আমন মৌসুমে সারের কৃত্রিম সংকট ও সিন্ডিকেটের কারণে কৃষকদের দুর্দশা ও দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ঝুঁকির দিকে এগিয়ে যাওয়া নিয়ে বিশ্লেষণ।