আমনসহ বিভিন্ন ধানের চাষের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ এবং সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার ক্রয়ের দাবিতে রাজশাহীর পুঠিয়ায় ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বানেশ্বর বাজার এলাকায় এই বিক্ষোভ শুরু হয়। প্রায় আধা ঘণ্টা পর স্থানীয় প্রশাসনের আশ্বাসের পর কৃষকরা সড়ক ছাড়লে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

বিক্ষোভকারী কৃষকরা জানান, চাষের ঋতুতে স্থানীয় বাজারে চাহিদা অনুযায়ী সার পাওয়া যাচ্ছে না। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও অনেক কৃষক খালি হাতে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। এছাড়া কিছু দোকানে সরকারি মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগও তাদের। এসব বিষয় নিয়েই তারা সড়কে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানায়। এ সময় মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়, যা সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের ভোগান্তিতে ফেলে।

কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, "কৃষির গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সার সংকট তৈরি হলে ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত বাজারে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ করা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।"

অন্য এক কৃষক জামিলুর রহমান বলেন, "জমিতে সার দেওয়ার সময় চলে যাচ্ছে। কিন্তু দোকানে গিয়ে সার পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা কৃষকরা সার চাই, কালোবাজারি চাই না। সরকার নির্ধারিত দামে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ করতে হবে।"

অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পর কৃষকরা সড়ক থেকে সরে আসেন। তবে কৃষকরা শুধু আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন। তারা দ্রুত বাজারে সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগগুলো তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মোস্তফা কামাল হোসেন বলেন, "কৃষকদের সারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে বাজার পরিস্থিতি নজরদারি করা হচ্ছে। কোথাও কৃত্রিম সংকট বা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, "খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। কৃষকেরা সড়ক থেকে সরে যাওয়ার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।"