কুড়িগ্রামে সার সংগ্রহের সুশৃঙ্খলতা ও জমির সঠিক পুষ্টি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো ‘মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা কার্ড’ চালু করা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এই উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষকের পরিচয় নিশ্চিতকরণ এবং সার সংগ্রহের তথ্য সংরক্ষণের লক্ষ্য রাখা হয়েছে। গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) থেকে জেলার ৯ উপজেলার মধ্যে শুধুমাত্র চিলমারী উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্ড বিতরণ শুরু হয়।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী অক্টোবর থেকে সার বিতরণের তথ্য লিপিবদ্ধ করার জন্য এ কার্ড ব্যবহার করা হবে। পর্যায়ক্রমে জেলার বাকি উপজেলাগুলোতেও কৃষকদের হাতে কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। তবে কার্ড চালুর পাশাপাশি সার পেতে কৃষকরা নানা ভোগান্তির কথা তুলে ধরেছেন। তাদের দাবি, চলতি আমন মৌসুমে জরুরি প্রয়োজনে ইউরিয়া সার পাওয়া যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে কার্ড সংগ্রহের জন্য কৃষি অফিসে যাতায়াত করায় সময় ও অর্থের ব্যয় বেড়েছে।
চিলমারী উপজেলার কৃষক মাজেদুল ইসলাম বলেন, "কার্ড তো পাইছি, কিন্তু সার পাইতেছি না। ডিলারের কাছে গেলে বলে সার আসে নাই। সার না পাইলে কার্ড দিয়ে কী করবো।"
অন্যদিকে, চর পাত্রখাতা এলাকার কৃষক বদিউজ্জামান জানান, "এই প্রথম সারের জন্য কার্ড নিতে হইছে। কার্ড আনতেও প্রায় ৩০ টাকা খরচ হইছে। কার্ড নিয়েও যদি সময়মতো সার পাইতাম, তাহলে উপকার হইত।"
সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, "‘মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা কার্ড’ তো পাই নাই। এই কার্ডে যে কী কী সুবিধা, তা তো জানি না। আমাদের এখানে কেউ পায় নাই।"
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাহিদা আফরিন মুক্তকণ্ঠকে জানান, মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা কার্ডে কোন ফসলের জন্য কতটুকু সার প্রয়োজন, সেই তথ্য থাকবে। এছাড়া কৃষকরা কখন কতটুকু সার নিয়েছেন, তার বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি আমন মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ২৪ হাজার হেক্টর জমিতে আমন রোপণ করা হয়েছে। নয় উপজেলায় নিবন্ধিত কৃষকের সংখ্যা ৫ লাখ ৮৪ হাজার ৬২০ জন। গত জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে জেলার জন্য মোট ১২ হাজার ৪৮৩ টন ইউরিয়া বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসে বরাদ্দ রয়েছে ৪ হাজার ৬৪৪ টন।
চিলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় মুক্তকণ্ঠকে বলেন, উপজেলায় প্রায় ৩২ হাজার কৃষক রয়েছেন। এর মধ্যে সাড়ে চার হাজার কৃষকের হাতে ইতোমধ্যে কার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে। কার্ডে কৃষক কোন সার, কখন এবং কী পরিমাণ নিয়েছেন, সেসব তথ্য সংরক্ষণ করা হবে।
কার্ড সংগ্রহে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, কৃষি অফিস থেকে কার্ড নিতে কোনো ফি নেই। কেউ বাইরে থেকে কম্পিউটারে প্রিন্ট করলে কেবল প্রিন্টিং খরচ হতে পারে।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক তানভীর হাসান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, চিলমারী উপজেলা থেকে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলার সব উপজেলায় এই কার্ড বিতরণ করা হবে। অক্টোবর থেকে কার্ডের তথ্যভিত্তিক কার্যক্রম পুরোপুরি চালু হবে।