কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার রৌমারী মহিলা কলেজপাড়া এলাকায় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
এর আগে গত ২৩ আগস্ট জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নে মেসার্স শাহ আমানত ডিলার পয়েন্ট থেকে ১৯৭ বস্তায় প্রায় ১০ হাজার কেজি সার লুট হয়েছিল।
বন্দবেড় ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডসহ আশপাচের কৃষকরা সার সংগ্রহে রাত থেকেই ডিলার পয়েন্টে জড়ো হন। দীর্ঘ অপেক্ষার পরও ডিলারের অনুপস্থিতিতে তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়। সকাল ১১টা পর্যন্ত সার বিতরণ না হওয়ায় উত্তেজিত কৃষকরা গুদামের টিনের বেড়া ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে সারের বস্তা নিয়ে যায়।
মেসার্স মিতা-হাসান এন্টারপ্রাইজ ডিলার পয়েন্টের স্বত্ত্বাধিকারী মো. মতিয়ার রহমান বলেন, "সকাল সাড়ে নয়টার দিকে সার বিতরণ শুরু করার কথা ছিল। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় প্রশাসনের সহযোগিতা নিতে ইউএনওর কাছে যাওয়া হয়। এর মধ্যে ধৈর্যহারা কৃষকেরা গুদাম থেকে আনুমানিক শতাধিক বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে যান। ঠিক কত বস্তা সার নেওয়া হয়েছে, তা দিনশেষে হিসাব করে জানা যাবে।"
রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহবুবুল আলম বসুনিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই। কৃষকরা ধৈর্য ধরে সার উত্তোলন করলে কোনো সমস্যা হবে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আগামীকাল (মঙ্গলবার) থেকে খোলাবাজারে সার বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে। এতে সার নিয়ে ছড়ানো গুজবও দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।"
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুবুল হাসান জানান, "আমি নিজেই বিভিন্ন ডিলার পয়েন্টে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন। একটি সার বিক্রয়কেন্দ্রে কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল। পরে প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।"