সারসংকটের পেছনে রাজনৈতিক কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, “রাজনৈতিক না বলে আমি বলব যে দুষ্টু লোক তো আছে এখানে। রাজনৈতিক আমি বলতেছি না, দুষ্টু লোক।”

আজ শনিবার দুপুরে গাজীপুরের শ্রীপুরে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) অধীনে দেশের প্রথম গামা ইরেডিয়েশন সেন্টার উদ্বোধন করেন কৃষিমন্ত্রী। এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন।

সারের সংকটের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ বলেন, “নরমালি এভাবে আমি বলি না। কিন্তু এখানে দুঃখের সঙ্গে বললাম, আপনি খেয়াল করে দেখেন, এই সারের যত সমস্যা, লিমিটেড কয়েকটা জায়গার ভেতরে, সারা বাংলাদেশে না। একেবারে লিমিটেড জায়গায়। অমুক উপজেলার অমুক ইউনিয়নের।”

সার পাচারের বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী জানান, সীমান্ত এলাকায় সার আটকের ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। তাঁর ভাষ্যমতে, ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে সার ধরা পড়ছে। তিনি আরও বলেন, “ইন্ডিয়ান বর্ডারে সার ধরা পড়তেছে স্পেসিফিক কয়েকটা জায়গায়। ইন্ডিয়াতে নন–ইউরিয়া সারগুলো আমাদের এখান থেকে দাম বেশি। ওই দিকে পাচার হওয়ার একটা প্রবণতা আছে।”

অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, চাহিদার তুলনায় কোনো কোনো এলাকায় প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সার সরবরাহ করা হলেও সেখানে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। এই বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

কৃষিপণ্য রপ্তানি বৃদ্ধির বিষয়ে সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন আমিন উর রশিদ। তিনি জানান, বাংলাদেশ ভবিষ্যতে কৃষিপণ্য আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানির দিকে আরও এগিয়ে যেতে চায়। কৃষিপণ্যকে দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্য হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

বিশেষ করে গাজীপুরের কাঁঠাল বিদেশে রপ্তানির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, গামা ইরেডিয়েশন সেন্টারে প্রক্রিয়াজাত করার মাধ্যমে কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফল ও সবজির সংরক্ষণকাল বাড়ানো সম্ভব হবে। এর ফলে পচন ও পোকামাকড়ের ঝুঁকি কমে যাবে এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে।

উক্ত অনুষ্ঠানে গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম রফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) বাংলাদেশ প্রতিনিধি জিয়াওকুন শি।