
‘মনরে বোঝ দিবার লাগি আধা পচা ধান কাটছি’
‘পরতি বছর ধান পাই ১২০ থাকি ১৩০ মণ। ইবার অর্ধেক ধান পানিতে গেছে। মনরে খালি বোঝ দিবার লাগি আধা পচা ধান কাটছি।

‘পরতি বছর ধান পাই ১২০ থাকি ১৩০ মণ। ইবার অর্ধেক ধান পানিতে গেছে। মনরে খালি বোঝ দিবার লাগি আধা পচা ধান কাটছি।

তিন ধরনের ‘বন্যা’ হয় হাওরে। উকিল মুন্সীর গানের মতো ‘আষাঢ় মাইস্যা ভাসা পানি’ সাধারণ ঋতুভিত্তিক বন্যা।

সুনামগঞ্জে এবার মার্চের মাঝামাঝি থেকে বৃষ্টি শুরু হয়। এতে বিভিন্ন হাওরে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। ২৬ এপ্রিল থেকে শুরু হয় অতিবৃষ্টি, নামে উজানের পাহাড়ি ঢল।

‘জমির ধান গেল পানিতে, এখন খলার (কাটার পর স্তূপ করে রাখা) ধান নষ্ট অইযায় রইদের ( রোদ) অভাবে।’

কৃষক আবদুল মালিক (৮৫) হাওরে ২৯ বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছিলেন। এর মধ্যে ২০ বিঘাই তলিয়ে গেছে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে।

চার দিনের বৃষ্টি শেষে দেখা দিয়েছিল রোদ। কিষান–কিষানিরা দলে দলে বেরিয়ে পড়েছিলেন ঘরের বাইরে।

কিশোরগঞ্জসহ দেশের সব হাওর এলাকায় বৃষ্টি কমেছে। রোদ উঠেছে। চাষিরা আবার আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন।

হাওরে কৃষকের ফসলহানি ও চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিয়ে সরকারের আন্তরিকতা প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু হাওরে ও চট্টগ্রামে সমস্যার ভিন্ন বাস্তবতার বিষয়গুলো সরকার জানে?

টানা চার দিনের বৃষ্টির পর সুনামগঞ্জেও রোদের দেখা মিলেছে। দুর্ভোগে পড়া হাওরের কৃষকেরা কিছুটা স্বস্তি নিয়ে পানিতে তলিয়ে যাওয়া জমির ধান কাটার চেষ্টা করছেন।

ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি উজান থেকে আসা ঢলে সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, মৌলভীবাজার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হাওরাঞ্চলে বিস্তৃত এলাকার ধানখেত তলিয়ে গেছে।

সবচেয়ে বেশি তিনজনের মৃত্যু হয়েছে নেত্রকোনার খালিয়াজুড়িতে। এ ছাড়া দুজনের মৃত্যু হয়েছে সুনামগঞ্জে; একজন করে মৃত্যু হয়েছে হবিগঞ্জ ও নোয়াখালীতে।

বাংলাদেশে বজ্রপাত এপ্রিলে তীব্র হয়, আর মে মাসে পৌঁছায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে। এরপর জুন-জুলাইয়ে কমতে শুরু করে। এভাবে বজ্রপাতে প্রতিবছর কয়েক শ মানুষের মৃত্যু হলেও তা কমাতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই।